বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের কথা বলে ডেকে নেওয়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে তিতাস নদীর মাঝখানে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। নৌকায় তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগে গভীর ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিবৃতিতে আসক জানায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর একটি অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের জন্য নেওয়ার কথা বলে দুই নারীকে নৌকায় তোলা হয়। পরে তাদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করা হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনাকে নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মানবাধিকারের ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে আসক। একই সঙ্গে নৃত্যশিল্পীসহ প্রত্যেক নারীর নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সম্মানের সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অধিকার রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
আসকের ভাষ্য, কোনো নারী নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করেন কিংবা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোনো অনুষ্ঠানে পরিবেশনা করেন—এ কারণে তিনি কোনোভাবেই সহিংসতা বা নিপীড়নের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন না। নিরাপদে চলাফেরা ও কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সংগঠনটি আরও বলেছে, ঘটনাটিকে শুধু কয়েকজন ব্যক্তির অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, আইন প্রয়োগ এবং নারীর নিরাপদ চলাচল ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার কার্যকারিতা নিয়েও এ ঘটনা গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
অভিযোগে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে আসক। কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপের কারণে যেন অভিযুক্তরা আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে ভুক্তভোগী দুই নারীর নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। তাদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষার প্রতিও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আসক।
আসক বলেছে, নারীর নিরাপত্তা কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি সমঅধিকার, মর্যাদা ও মানবাধিকারের প্রশ্ন। নারীরা যেন ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা ছাড়াই নিজেদের পছন্দের পেশায় কাজ করতে পারেন, রাষ্ট্রকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।