এতদিন ‘সময় নেই’ বলে বিয়ের প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন, প্রেমের গুঞ্জন উঠলেও রেখেছেন রহস্যের আড়ালে। সেই মিমি চক্রবর্তীর জীবনেই এবার নাকি বাজতে চলেছে বিয়ের সানাই! টালিপাড়ায় জোর গুঞ্জন—চুপিসারে তাঁর জীবনে এসেছেন ‘কেউ একজন’। শুধু প্রেমেই থেমে নেই গল্প, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই পাহাড়ের শহর কালিম্পঙে বসতে পারে মিমির বিয়ের আসর। তার আগে নভেম্বরে হতে পারে আংটিবদল। তাহলে কে সেই মানুষ, যাঁর জন্য বদলে গেল ব্যস্ত মিমির জীবনের সমীকরণ?
পশ্চিমবঙ্গের একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মিমির বিয়ের প্রস্তুতি নাকি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে নিমন্ত্রণের তোড়জোড়ও চলছে। এমনকি বিয়ের আগে নভেম্বরে আংটিবদলের অনুষ্ঠান হওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।
গুঞ্জন অনুযায়ী, মিমির হবু স্বামী টালিপাড়ার কেউ নন। পেশায় তিনি ভারতীয় নৌবাহিনীর সদস্য। তাঁর নাম সিদ্ধার্থ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সম্পর্ক বা বিয়ে নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কিছু বলেননি মিমি কিংবা কথিত হবু বর।
ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিয়ের কেনাকাটা থেকে শুরু করে নিমন্ত্রণপত্র বিতরণের প্রস্তুতিও নাকি চলছে। ফলে কয়েক মাসের মধ্যেই মিমির জীবনে আসতে চলেছে বড় পরিবর্তন—এমনটাই জোরালো হয়েছে গুঞ্জন।
মিমির প্রেম ও বিয়ে নিয়ে এর আগেও কম আলোচনা হয়নি। বিভিন্ন সময়ে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ালেও অভিনেত্রী বরাবরই সেসব বিষয়ে খুব বেশি মুখ খোলেননি। কয়েক বছর আগে বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মিমি বলেছিলেন, বিয়ে করতে হলে আগে পাত্র খুঁজতে হবে, দেখা-সাক্ষাৎ করতে হবে—সেই সময়টুকুও তাঁর নেই।
তবে এবার কি সেই ব্যস্ত অভিনেত্রীর জীবনেই সত্যিই কেউ এসে গেছেন? উত্তর অবশ্য এখনো অজানা। কারণ বিয়ের খবর নিয়ে মিমির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
বাংলাদেশেও মিমির জনপ্রিয়তা ব্যাপক। ২০২৪ সালে শাকিব খানের বিপরীতে রায়হান রাফীর ‘তুফান’ সিনেমায় অভিনয়ের পর এ দেশের দর্শকদের কাছে তাঁর পরিচিতি আরও বাড়ে। সিনেমাটির ‘দুষ্টু কোকিল’ ও ‘লাগে উরা ধুরা’ গানও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
মডেলিং দিয়ে শোবিজে যাত্রা শুরু করা মিমি ২০১০ সালে ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকে ‘পুপে’ চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান। পরে ২০১২ সালে ‘বাপি বাড়ি যা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন টালিপাড়ায়।
অভিনয়ের পাশাপাশি ২০১৯ সালে রাজনীতিতেও পা রাখেন মিমি। যাদবপুর আসন থেকে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্যও হয়েছিলেন তিনি।
বর্তমানে অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত মিমি। পূজায় মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। পাশাপাশি নতুন একটি সিনেমার শুটিংও শুরু করার কথা রয়েছে তাঁর।
এত ব্যস্ততার মধ্যেই যদি সত্যিই পাহাড়ে বসে মিমির বিয়ের আসর, তাহলে টালিপাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের ভক্তদেরও নজর থাকবে সেই আয়োজনের দিকে। তবে শেষ পর্যন্ত মিমির জীবনের ‘সিদ্ধার্থ’ কে—আর ডিসেম্বরেই কি সত্যিই বাজবে বিয়ের সানাই—সেটিই এখন দেখার।