নানা সমস্যায় জর্জরিত হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। এতে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লাখাই উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য রয়েছে মাত্র একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৩১ শয্যার হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো ৩১ শয্যার জনবল ও অবকাঠামো দিয়েই কার্যক্রম চলছে। ফলে প্রতিনিয়ত রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকের ৩৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৯ জন। ২৫টি নার্সের পদের বিপরীতে রয়েছেন ১৬ জন। এছাড়া পাঁচটি ক্লিনারের পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়েও নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে প্রায়ই রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে হাসপাতালটি ঘুরে দেখা যায়, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ৭৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে ২৪ জনকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৩৪ জন শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ জন হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন। এছাড়া ২৩ জন নারী, ১৭ জন পুরুষ ও দুজন গর্ভবতী নারীসহ মোট ৭৪ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী শামসুল আরেফীন বলেন, “৫০ শয্যার হাসপাতালটি এখনো ৩১ শয্যার আদলে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। জনবল সংকটের কারণে রোগীদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বাকবিতণ্ডাও প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “জনবল সংকটের কারণে আমরা উপজেলাবাসীর কাছে এক ধরনের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে পড়েছি।”
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মোক্তাদির বলেন, “জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছি না। এ কারণে নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট চললেও এর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।