পাহাড় কাটায় লাগাম টানতে হাইকোর্টের নির্দেশ

বান্দরবান সংবাদদাতা

সারাদেশ

বান্দরবানের লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে প্রশাসনের চাহিদা

2026-09-09T12:32:12+00:00
2026-09-09T12:32:12+00:00
  বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
 
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
পাহাড় কাটায় লাগাম টানতে হাইকোর্টের নির্দেশ
বান্দরবান সংবাদদাতা
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বান্দরবানের লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে স্থানীয় আর্মি ক্যাম্প কমান্ডারকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লামায় ৪০টি ইটভাটার জন্য পাহাড় কাটার খবর বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) গত ৩০ অক্টোবর হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে।

রিটের শুনানি শেষে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ চার সপ্তাহের রুল জারি করেন। একই সঙ্গে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করে তিন দিনের মধ্যে লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অপর এক আদেশে বিবাদীদের সাত দিনের মধ্যে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী শাস্তি ও অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

শুনানিতে অংশ নেওয়া সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পাহাড় কাটা বা ধ্বংস করার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। ওই আইনের ১৫ ধারায় পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের জেল ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। আইনের কঠোর প্রয়োগ না হওয়ায় পার্বত্যাঞ্চলে ইটভাটার মালিকরা পাহাড় কেটে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছেন। এটি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে ইটভাটার মালিকরা এতটাই বেপরোয়া যে, আদালতের বিভিন্ন নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইটভাটা পরিচালনার জন্য পাহাড় কেটে চলেছেন।’

আদালতের জারি করা রুলে লামা উপজেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, বান্দরবান জেলার পাহাড় কাটা ও ধ্বংস বন্ধে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং কেটে ফেলা পাহাড় পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

রিট পিটিশনে বাদীপক্ষে ছিলেন এইচআরপিবির আইনজীবী মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও আইনজীবী রিপন বারোই। বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালক, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বান্দরবান আর্মি ক্যাম্প কমান্ডারসহ মোট ১১ জন।

রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাঁকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল ও আইনজীবী নাছরিন সুলতানা। সরকারপক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন মো. হানিফ।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। হাইকোর্টের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: