সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন করে নিয়োগ পাওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও সেখানে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি নিয়ে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের পদায়নের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে পরবর্তী সময়ে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে বদলি কার্যক্রম শুরু করা হলে বর্তমানে চালু থাকা নীতিমালায় বদলি হবে, নাকি নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে—সে বিষয়ে তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অর্থাৎ আপাতত বদলির জন্য অপেক্ষায় থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নতুন নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিজ নিজ কর্মস্থলেই থাকতে হবে।
এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর শূন্য পদে সুপারিশ পাওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের যোগদানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১ অক্টোবর।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ২ আগস্টের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রার্থীদের ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্রও পাঠানো হবে।
যোগদানের পর আগামী ৪ অক্টোবর তাঁদের পদায়ন করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য পাঠানো হবে।
নতুন শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নের কারণে পুরোনো শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম স্থগিত করায় বদলির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে বদলির আবেদন করা শিক্ষকরা কবে আবার এ সুযোগ পাবেন, সেটি এখন নির্ভর করছে নতুন শিক্ষকদের পদায়ন শেষ হওয়ার ওপর।
তবে সরকার বলছে, নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের পদায়নের পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বদলি কার্যক্রম নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফলে আপাতত ১৪ হাজার ৩৮৪ নতুন সহকারী শিক্ষকের পদায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি বন্ধই থাকছে।