রোহিঙ্গা সংকট আর ঝুলিয়ে রাখা নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জোরালো ভূমিকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ভোরের ডাক ডেস্ক

জাতীয়

রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘসহ

2026-09-06T17:54:47+00:00
2026-09-06T17:54:47+00:00
  রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২২ ভাদ্র ১৪৩৩
 
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
রোহিঙ্গা সংকট আর ঝুলিয়ে রাখা নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জোরালো ভূমিকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ভোরের ডাক ডেস্ক
রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৪ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে রোহিঙ্গা ইস্যুটি সক্রিয়ভাবে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে হবে, যাতে অন্য কোনো বৈশ্বিক সংকটের আড়ালে বিষয়টি চাপা না পড়ে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) আয়োজিত ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিফ্রেমিং রেসপনসিবিলিটিজ’ শীর্ষক আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব রাজনীতির প্রভাবশালী দেশগুলোর রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জাতিসংঘের প্রত্যক্ষ সহায়তায় রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংকট নিরসনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য একটাই—আশ্রিত প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন (ইউএনএইচসিআরের হিসাবে ১ দশমিক ২ মিলিয়ন) বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিককে যেন পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারি।’

এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তা এবং প্রভাবশালী দেশগুলোর রাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের ওপর তৈরি হওয়া চাপের কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা ও জীবনধারণের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে আসছে।

তবে সময়ের সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলেও জানান।

ক্যাম্পসংলগ্ন স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পরিবেশও ঝুঁকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পের চারপাশে সীমান্ত বেড়া বা ফেন্সিং এবং নিয়ন্ত্রিত যাতায়াত ব্যবস্থার মতো নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন হয়েছিল।

সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকারও সফলভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর্মুলেশন কমিটি অন রোহিঙ্গা অ্যাফেয়ার্স’ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক সমন্বয়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটিও কাজ করছে।

বেসামরিক প্রশাসন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে সরকার ‘হোল-অব-গভর্নমেন্ট’ পদ্ধতিতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা ছাড়া অনির্দিষ্টকাল মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকলে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সমাধানের তাগিদ কমে যেতে পারে। তাই শুধু ত্রাণ সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত ‘ট্রানজিশনাল স্ট্র্যাটেজি’ বা রূপান্তরকালীন কৌশলে যেতে হবে।

এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসইভাবে ফিরে যাওয়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা।

আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ, জাতীয় ঐক্য ও শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামোর সমন্বয়ে রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আইজিসিএফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আদনান রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গোলটেবিল আলোচনা শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী।

আলোচনায় বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইসেন, বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: