তারেক রহমান-ট্রাম্প বৈঠকের সম্ভাবনা, নতুন মাত্রায় ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক

সুজন দে

জাতীয়

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ঢাকা-ওয়াশিংটনের সম্পর্ক। চলতি মাসে

2026-09-06T11:10:08+00:00
2026-09-06T11:10:08+00:00
  রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২২ ভাদ্র ১৪৩৩
 
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
তারেক রহমান-ট্রাম্প বৈঠকের সম্ভাবনা, নতুন মাত্রায় ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক
সুজন দে
রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১০ এএম 
এআই ছবি
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ঢাকা-ওয়াশিংটনের সম্পর্ক।  চলতি মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর। সেই সফরে দুই নেতার সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। গতকাল সিলেটে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হুমায়ুন কবির বলেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা’ তুলে ধরবেন। সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হতে পারে বলেও জানান তিনি। এমন বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিসর দ্রুত বাড়ছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর। এই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমাবেশের ফাঁকে ট্রাম্প ও তারেক রহমানের বৈঠক হলে তার গুরুত্ব শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাংলাদেশের জন্য এটি নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের রাজনৈতিক মাত্রা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি, শ্রম ও বাণিজ্যনীতি, জ্বালানি সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্ক— এসব বিষয় সম্ভাব্য আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

গত ৩১ আগস্টের এক চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানান। একই চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন এবং তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশার কথাও জানান।

চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশটির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে বলে তিনি মনে করেন। বোয়িংয়ের বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মনোযোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে সৌজন্য বিনিময়, নাকি দুই দেশের বৃহত্তর সম্পর্কের নতুন পর্যায়ের ইঙ্গিত— সেটিই এখন পর্যবেক্ষকদের অন্যতম আগ্রহের বিষয়।

এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি বিমান কেনার চুক্তি করে। প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তিতে রয়েছে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। প্রথম বিমানটি ২০৩১ সালের নভেম্বরে সরবরাহের কথা রয়েছে। তবে এই ক্রয়াদেশের তাৎপর্য শুধু বিমান বহর আধুনিকীকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের নতুন বাণিজ্য কাঠামোর মধ্যেও মার্কিন উড়োজাহাজ, জ্বালানি ও কৃষিপণ্য কেনার বিষয়টি স্থান পেয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশ যে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছায়, সেখানে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ১৯ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক বজায় রাখার পাশাপাশি মার্কিন পণ্য ও বিভিন্ন খাতে বাজার-সুবিধা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়। চুক্তির বাণিজ্যিক অংশে বিমানের পাশাপাশি প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন জ্বালানি এবং প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য কেনার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বোয়িংয়ের ক্রয়াদেশকে ঢাকা-ওয়াশিংটনের বৃহত্তর অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এর আগে বলেছেন, বিমান কেনার সিদ্ধান্ত কোনো মার্কিন চাপের ফল নয়; বরং বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের প্রয়োজন থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু, যাত্রীসেবা বাড়ানো এবং বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি সম্ভাব্য এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিমান বহর সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি ব্যাখ্যা করেছেন।

তবে বাস্তবতা হলো, নতুন বাণিজ্য কাঠামোর মধ্যে মার্কিন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ রয়েছে। চুক্তির নথিতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার জন্য মার্কিন বেসামরিক বিমান, যন্ত্রাংশ ও সেবা কেনা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, ঢাকা যেমন বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনাকে নিজেদের অর্থনৈতিক ও বিমান পরিবহন চাহিদার অংশ হিসেবে দেখছে, ওয়াশিংটনের কাছেও এটি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্কে ট্রাম্প ও তারেক রহমানের সম্ভাব্য বৈঠক হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথ বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি আঞ্চলিক কৌশল, নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাও উঠে আসতে পারে।



Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: