রংপুরে মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় জেএমবির দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই মামলায় পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী এবং লিটন মিয়া ওরফে রফিক।
অন্যদিকে হাইকোর্ট থেকে খালাস পেয়েছেন জেএমবি সদস্য ইছাহাক আলী, সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল, সরওয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান, উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার বিজয় ওরফে আলী ওরফে দরজি এবং চান্দু মিয়া।
এর আগে এই মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন রংপুরের বিশেষ জজ আদালত। একই রায়ে ছয়জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকার ওই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির মধ্যে ছিলেন মাসুদ রানা, ইছাহাক আলী, লিটন মিয়া, সাখাওয়াত হোসেন, সরওয়ার হোসেন সাবু, বিজয় ওরফে আলী ওরফে দরজি এবং চান্দু মিয়া।
হাইকোর্টের রায়ে তাদের মধ্যে মাসুদ রানা ও লিটন মিয়ার মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকল। বাকি পাঁচজন খালাস পেলেন।
মামলার ১৩ আসামির মধ্যে দুজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন চান্দু মিয়া ও রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন।
যেভাবে হত্যা করা হয় রহমত আলীকে, মামলার নথি ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার পথে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড়ে মাজার শরিফের খাদেম রহমত আলীকে (৬০) হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়।
দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পরদিন, ১১ নভেম্বর নিহতের ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি হাইকোর্টে এলে রোববার দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল এবং পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হলো।