সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেও জামিন পেলেন না বিদিশা

ভোরের ডাক ডেস্ক

আইন-আদালত

রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক

2026-09-02T14:35:22+00:00
2026-09-02T14:35:22+00:00
  বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আইন-আদালত
সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেও জামিন পেলেন না বিদিশা
ভোরের ডাক ডেস্ক
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৫ পিএম 
বিদিশা সিদ্দিক।
রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক। একইসঙ্গে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নাকচ করেন। ফলে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে বিদিশাকে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মাহমুদুল কবির জানান, বিদিশার সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল আদালত গ্রহণ করেছেন। শুনানিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের বিষয়টি উল্লেখ করে মানবিক কারণে তার জামিন চাওয়া হয়েছিল। তবে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

আইনজীবী আরও জানান, জামিন নামঞ্জুরের এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে গত ২০ মে এ মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম। একই রায়ে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলায় যে অভিযোগ, ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদিশার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন মোশাররফ হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী। মামলার অভিযোগ ও বাদীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট কেনার বিষয়ে বিদিশার সঙ্গে তার ৮০ লাখ টাকার চুক্তি হয়।

মামলার নথিতে অভিযোগ করা হয়, ওই চুক্তির অংশ হিসেবে ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দেন বাদী। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধের মাধ্যমে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। একই বছরের পরবর্তী সময়ে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ফ্ল্যাটের পরিবর্তে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাদীকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয় বলে বাদীর দাবি।

বাদীর আরও অভিযোগ, এরপর বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং টাকা বা ফ্ল্যাট—কোনোটিই তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও মামলায় করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদিশা তাকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে।

তবে মামলায় করা এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের রায় ও আপিলের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত হয়, সেটিই চূড়ান্তভাবে প্রাসঙ্গিক হবে।


Loading...
Loading...

আইন-আদালত- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: