১৬ আসামিকে ফাঁসি দেওয়া সেই বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিলেন হাইকোর্ট

ভোরের ডাক ডেস্ক

আইন-আদালত

ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া নিম্ন আদালতের বিচারকের বিচারিক মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন

2026-08-24T15:00:56+00:00
2026-08-24T15:00:56+00:00
  মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬,
১০ ভাদ্র ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
আইন-আদালত
১৬ আসামিকে ফাঁসি দেওয়া সেই বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিলেন হাইকোর্ট
ভোরের ডাক ডেস্ক
সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০০ পিএম 
ফাইল ছবি
ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া নিম্ন আদালতের বিচারকের বিচারিক মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ফৌজদারি মামলার বিচারকাজ থেকে ওই বিচারককে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) নুসরাত হত্যা মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেছেন, নুসরাত হত্যা মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশিদ যথাযথভাবে বিচারিক মানসিকতা প্রয়োগ করেননি। ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আদেশও যথাযথ ছিল না।

নুসরাত হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে করা ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। তাঁরা হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম।

এ ছাড়া চার আসামির মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

২০১৯ সালে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলায় রায় দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশিদ। রায়ে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল।

পরে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে আসামিরা পৃথকভাবে ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল করেন।

যেভাবে হত্যা করা হয় নুসরাতকে

২০১৯ সালের ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরীন আখতার। এরপর পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সিরাজের অনুসারীরা তাঁকে কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য জনমত তৈরির চেষ্টা করেন। ৩ এপ্রিল কারাগারে গিয়ে কয়েকজন তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করেন। পরদিন মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে নুসরাতকে কৌশলে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন।

হাইকোর্টে গড়ায় মামলা

বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পৌঁছায়। পরে এটি ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়।

চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এর পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ হাইকোর্টের রায়ে নিম্ন আদালতের সেই বহুল আলোচিত মৃত্যুদণ্ডের রায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এলো। একই সঙ্গে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া বিচারকের বিচারিক মানসিকতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুললেন উচ্চ আদালত।


Loading...
Loading...

আইন-আদালত- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: