ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নাম হতে পারে ‘ট্রাম্প প্রণালি’।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ প্রস্তাব দেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিষয়টি সামনে আসে।
পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ অবস্থায় জলপথটির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখা যায় কি না—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, আমেরিকার মতোই নতুন নামের এই প্রণালিও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও ‘উত্তপ্ত’ হবে।
ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তন নিয়ে ট্রাম্পের এমন উদ্যোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যিক উত্তেজনার মধ্যেই লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নেন তিনি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘আমেরিকা উপসাগর’ করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
তবে হরমুজ প্রণালির ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধু নাম পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প একাধিকবার এই জলপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার হুমকি দিয়েছেন। এমনকি হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে একটি মানচিত্রও প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক বেশি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে সামরিক সংঘাত, নৌযান চলাচলে বাধা কিংবা অবরোধ তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাত তীব্র হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ইরান জলপথটির নৌ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করছে, ইরান সেখানে সামুদ্রিক মাইন স্থাপনের চেষ্টা করছে।
এই অভিযোগের পর গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের রাডার ব্যবস্থা ও মাইন স্থাপনের সক্ষমতা ধ্বংস করা।
হরমুজকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও। নৌপথটিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং সংঘাতের নতুন করে তীব্রতায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের ট্রাম্পের প্রস্তাব নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এটি এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের দেওয়া একটি প্রস্তাব হিসেবেই রয়েছে; জলপথটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নাম পরিবর্তনের কোনো বাস্তব সিদ্ধান্ত হয়নি।