‘দয়া নয়, ক্ষতিপূরণ চাই’—যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-চীনকে নেপালের কড়া বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর জলবায়ুজনিত ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছে নেপাল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল যুক্তরাষ্ট্র,

2026-09-02T20:12:47+00:00
2026-09-02T20:12:47+00:00
  বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
‘দয়া নয়, ক্ষতিপূরণ চাই’—যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-চীনকে নেপালের কড়া বার্তা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১২ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর জলবায়ুজনিত ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছে নেপাল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের কাছ থেকে এই ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, বিশ্বের অন্যতম প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী এসব দেশের কর্মকাণ্ডের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ছে। অথচ এর সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হচ্ছে নেপালের মতো কম নিঃসরণকারী দেশগুলো। তাই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির দায়ও তাদের নিতে হবে।

প্রায় এক সপ্তাহ আগে ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালের অন্তত তিনটি জেলার বহু গ্রাম প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিব্বত-নেপাল সীমান্তের উচ্চভূমিতে হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ বরফশীতল পানি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে এই বিপর্যয় সৃষ্টি করে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল ১ হাজার ১০০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মানুষ।

সহায়তা নয়, ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহির দাবি

দুর্যোগের পর আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে নেপাল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দুর্যোগের পর নেপালকে দেওয়া সহায়তাকে নিছক দয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রতি এটি নৈতিক দায়বদ্ধতার অংশ হওয়া উচিত।

শিশির খানালের দাবি, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে নেপালের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ খুবই সামান্য। এরপরও জলবায়ু পরিবর্তনের অসম প্রভাব দেশটিকে বহন করতে হচ্ছে। দ্রুত হিমবাহ গলে যাওয়া এবং পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দুর্যোগ এর বড় উদাহরণ।

তিনি বলেন, নেপাল এমন একটি বৈশ্বিক সংকটের মূল্য দিচ্ছে, যে সংকট তৈরিতে দেশটির ভূমিকা প্রায় নেই। হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়া এবং ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলকে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি পরিণতি হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশটির কূটনৈতিক অবস্থান এখন শুধু সহায়তা চাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিকে সামনে আনা হচ্ছে।

খানাল চীনকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী, যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বিতীয় এবং ভারতকে তৃতীয় বৃহত্তম নিঃসরণকারী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এসব দেশের ঐতিহাসিক দায় রয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা নেপালের মতো দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় তাদের এগিয়ে আসা উচিত।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি শুধু নেপালের অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। হিমালয়ের হিমবাহগুলো ব্যাপকভাবে বিলীন হলে গঙ্গা ও ত্রিশূলীর মতো নদীর ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ এশিয়ার বিপুল জনগোষ্ঠীর পানির নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে।

নেপাল তাই শুধু নিজেদের জন্য নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ ও পানির নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: