সমুদ্রে টানা ২৮৬ দিন কাটানোর পর থাইল্যান্ডে পৌঁছেছে মার্কিন নৌবাহিনীর পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন। বুধবার থাইল্যান্ডের লাইম চাবাং বন্দরে এসে ভেড়ে রণতরীটি।
প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্য নিয়ে মোতায়েন থাকা রণতরীটি দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছে। ডেমোক্রেটিক দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতার মতে, টানা এতদিন সমুদ্রে অবস্থানের মাধ্যমে আধুনিক যুগে নতুন একটি রেকর্ড গড়েছে আব্রাহাম লিংকন।
থাই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্রাম, ক্রুদের সুস্থতা এবং প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহের জন্য রণতরীটির এই যাত্রাবিরতি। থাইল্যান্ডে অবস্থান করবে প্রায় পাঁচ দিন। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানিয়েছে ব্যাংকক।
ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ-৩-এর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল রবার্ট ই. লাফরান বলেন, লাইম চাবাংয়ে পৌঁছানো নাবিক ও মেরিনদের বিশ্রাম এবং নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই স্ট্রাইক গ্রুপ যা অর্জন করেছে, তা সত্যিকার অর্থেই ঐতিহাসিক। অভিযানের পুরো সময় দলের সদস্যরা যে পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা দেখিয়েছেন, তা নিয়ে আমি গর্বিত।’
আব্রাহাম লিংকনকে গত বছরের নভেম্বরে মোতায়েন করা হয়। সাধারণত মার্কিন নৌবাহিনীর একটি মোতায়েন ছয় থেকে নয় মাস স্থায়ী হয়। তবে যুদ্ধ বা সংঘাতের পরিস্থিতিতে সেই সময়সীমা বাড়তে পারে।
বুধবার সকালে লাইম চাবাং বন্দরে পৌঁছানোর সময় রণতরীটির বিশাল ফ্লাইট ডেকে ছিল অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার।
এদিকে, প্রায় ৫ হাজার সামরিক সদস্যের উপস্থিতিকে ঘিরে থাইল্যান্ডের পর্যটননির্ভর শহর পাতায়ায়ও বাড়তি তৎপরতা শুরু হয়েছে। পাতায়ার মেয়র পোরামাস এনগামপিচেস জানিয়েছেন, সামরিক সদস্যদের লাইম চাবাং বন্দর ও পাতায়ার মধ্যে যাতায়াতের জন্য প্রায় ৪০টি বাস চলাচল করবে।
তবে সামরিক সদস্যদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক রয়েছে থাই কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে এক অভিযানে পতিতাবৃত্তির অভিযোগে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাতায়ার প্রধান সমুদ্রসৈকত ও নাইটলাইফ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি টহল জোরদার করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ড দীর্ঘদিনের সামরিক মিত্র। ১৯৫৪ সালে দুই দেশের মধ্যে চুক্তিভিত্তিক সামরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০০৩ সালে থাইল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ন্যাটোবহির্ভূত মিত্র হিসেবে মনোনীত করা হয়। দুই দেশের সামরিক বাহিনী নিয়মিত যৌথ মহড়াতেও অংশ নেয়।