ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাচাতো ভাই নীহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বীরভূমের রামপুরহাটের কুসুম্বা গ্রামের বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ২৮ বছর বয়সী বৃষ্টি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। এ ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। খবর এনডিটিভির।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার জানিয়েছে, মৃত ওই নারীর নাম বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নীহাররঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা টানাপোড়েনের মধ্যে ছিলেন বৃষ্টি। তাদের ভাষ্য, কয়েক বছর ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধও সেবন করছিলেন।
পরিবার জানায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির দোতলার একটি কক্ষে বৃষ্টিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। পরে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের মার্চে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে বৃষ্টির চাকরি বাতিল হয়েছিল। তিনি বোলপুরের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে করণিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বৃষ্টির বাবা নীহাররঞ্জন মুখোপাধ্যায় সে সময় দাবি করেছিলেন, তার মেয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতেই চাকরি পেয়েছিলেন এবং চাকরি পাওয়ার জন্য তিনি কারও কাছে সুপারিশ করেননি।
এদিকে সম্প্রতি বৃষ্টির বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলাও আদালতে চলছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয়কে ঘিরে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে। মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।