নিখোঁজ হাজারো মানুষ : উদ্ধারকাজের অগ্রগতির সঙ্গে নেপালে নিখোঁজের সংখ্যাও কিছুটা কমেছে। তবে এখনো ৩ হাজার ৯১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বতে নিখোঁজের সংখ্যা ৫৪৬ জন।
দুই অঞ্চল মিলিয়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৪৬২ জন। ফলে উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার আগে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আজ দুর্যোগের সপ্তম দিনেও দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্গম এলাকা, প্রবল স্রোত ও যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতির কারণে উদ্ধারকাজে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন উদ্ধারকারীরা।
নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি : নেপালে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তারা বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশ থেকে হিমালয় অঞ্চলে ভ্রমণে গিয়েছিলেন।
অন্যদিকে তিব্বতে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ২৬১ জন। তারা ২৩টি দেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মরদেহ নিয়ে তৈরি হয়েছে সংকট : গত বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়। প্রবল পানির স্রোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মরদেহও নদীর স্রোতে বহু দূরে ভেসে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
উদ্ধার হওয়া মরদেহ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত ফ্রিজার না থাকায় বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে নেপাল কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর সেগুলো গণকবরে দাফন করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কোনো মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তা কবর থেকে তুলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বাড়ছে উদ্বেগ: নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা এখনো কয়েক হাজার হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্গত এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং মরদেহ শনাক্তকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।