দীর্ঘ সাত মাসের সামরিক অভিযান ও ২০০ দিনের বেশি সমুদ্রযাত্রা শেষে থাইল্যান্ডের পাতায়ার কাছে নোঙর করতে যাচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা ও মেরিন সদস্যের আগমনকে ঘিরে যেমন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তেমনি সম্ভাব্য যৌন শোষণ ও যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার দুটি সহযোগী যুদ্ধজাহাজসহ রণতরীটি থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে। মার্কিন সেনাদের আগমন সামনে রেখে পাতায়ার সৈকত ও নাইটলাইফ এলাকাগুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
এরই মধ্যে সপ্তাহান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
পাতায়া পুলিশ প্রধান আনেক শ্রাথোংইউ বলেন, প্রকাশ্যে চলা এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হলেও পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।
থাইল্যান্ডে দেহব্যবসা আইনত নিষিদ্ধ। তবে ব্যাংকক ও পাতায়ার মতো জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই এটি প্রকাশ্যে চলে আসছে।
রণতরী ঘিরে অর্থনৈতিক আশাও
মার্কিন সেনাদের আগমনকে ঘিরে পাতায়ার ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উৎসাহ তৈরি হয়েছে। শহরটির মেয়র পোরামাসে এনগামপিচেস জানান, একজন মার্কিন সেনা দৈনিক প্রায় ১ হাজার থেকে ৩ হাজার বাথ পর্যন্ত খরচ করতে পারেন। ফলে স্বল্পমেয়াদে স্থানীয় অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে অর্থনৈতিক লাভের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের।
ব্যাংকক ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক পিপাতপং ফাকফারে সতর্ক করে বলেন, বিপুলসংখ্যক পর্যটক বা দর্শনার্থীর আগমনে যৌন শোষণ ও যৌনবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় চাপে মার্কিন সেনারা
‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ গত বছরের নভেম্বরে সান ডিয়েগো থেকে যাত্রা করে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময় মোতায়েন ছিল। টানা ২০০ দিনের বেশি সমুদ্রযাত্রার কারণে জাহাজের সেনাসদস্যদের মানসিক চাপ ও মনোবল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বিষয়ক দুটি সাময়িকীর প্রতিবেদনে জাহাজটির সেনাদের মনোবল তলানিতে পৌঁছানো এবং আত্মহত্যার চেষ্টার মতো ঘটনার কথাও উঠে এসেছে।
এদিকে ১৯৬০-এর দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাদের অবকাশযাপনের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে পরিচিত পাতায়ায় এবারও মার্কিন সেনাদের আগমন ঘিরে বাড়তি ব্যবসার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।