ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে দেশটিতে আবারও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের পাল্টা হামলার জবাব দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে দেশটির ওপর আরও কঠোর সামরিক আঘাত হানা হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানের হামলার জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
এর আগে ইরানের লারাক দ্বীপে রোববার রাতে আকস্মিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের সদস্যসহ কয়েকজন নিহত ও আহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানে থাকা একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান।
এই হামলা-পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জুলাইয়ের পর দুই দেশের মধ্যে আবারও সরাসরি সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ইরানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বললেন ট্রাম্প : সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন ট্রাম্প। দেশটিকে ‘মৃত’ ও ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় ভেঙে পড়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে এবং দেশটির অর্থনীতিও ভয়াবহ সংকটে রয়েছে। এমনকি দেশটির সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বেতন দেওয়া হচ্ছে না এবং মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইরানের নেতৃত্ব দেশের পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বিক্ষোভ দমন নিয়ে ট্রাম্পের দাবি : ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক প্রাণহানির অভিযোগও করেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, দেশটির সরকার এক লাখ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে এবং দমন-পীড়নের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রেখেছে।
গত জানুয়ারিতে ইরানে বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছিল। ইরানের সরকারি হিসাবে ওই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হন। তবে ট্রাম্প যে এক লাখ নিহতের সংখ্যা উল্লেখ করেছেন, তার উৎস বা ভিত্তি স্পষ্ট করেননি তিনি। এর আগে অবশ্য মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ৬০ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছিল।
ফের অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি : সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কয়েকদিন ধরে ওয়াশিংটন সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কথা বলে আসছিল।
তবে নতুন করে সরাসরি হামলার ঘটনায় স্পষ্ট হচ্ছে, স্থায়ী কোনো যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা না হলে দুই দেশের মধ্যে যেকোনো সময় আবারও সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে।