
বার্তা সংস্থা রয়টার্স মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিপিং গোয়েন্দা সংস্থা মেরিস্কস ও কেপলারের তথ্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
মেরিস্কসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার গভীর রাতে ওমানের জলসীমার কাছাকাছি করিডরে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে হামলা দুটি হয়। একই এলাকায় প্রায় একই সময়ে এমন দুটি ঘটনার বিষয়টি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
কেপলারের তথ্য বলছে, হামলার শিকার দুই ট্যাংকারই গত সপ্তাহে সৌদি আরবের জুয়াইমাহ টার্মিনাল থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাত্রা করেছিল।
প্রথম হামলার শিকার হয় সৌদি পতাকাবাহী ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) ‘সিদর’। ওমানের খাসাব বন্দরের প্রায় ১৬ দশমিক ৬ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থানকালে অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই একই এলাকার কাছাকাছি আরেকটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ভিএলসিসি ‘সেনেগাল প্রসপারিটি’ খাসাব বন্দরের প্রায় ১৭ নটিক্যাল মাইল পূর্বে তিনটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদে আছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, একই এলাকায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হওয়ার সময় একটি ট্যাংকারে তিনটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। সাম্প্রতিক সময়ে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রণালিটি স্বাভাবিকভাবে চালু রাখতে কাতার ও ওমানসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী উদ্যোগ নিলেও পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি হয়নি।
নতুন করে দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও হামলার হুমকি দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে।