
হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা এবং এতে দুই নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রিয়াদ। নিহত দুই নাবিকই ফিলিপাইনের নাগরিক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ ঘটনার পাশাপাশি জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলারও নিন্দা জানায়। একই সঙ্গে দেশ তিনটির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন এবং সংহতি প্রকাশ করে সৌদি আরব।
সৌদি শিপিং কোম্পানি বাহরির তথ্য অনুযায়ী, ‘সিডর’ নামের সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারটি সোমবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় হামলার শিকার হয়। ওই ঘটনায় দুই নাবিক নিহত হন।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখা, রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে রিয়াদ।
সৌদি আরব সব পক্ষকে সংঘাতের পথ পরিহার করে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে ফিরে আসার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালা অনুসরণের আহ্বানও জানিয়েছে দেশটি।
এদিকে সৌদি ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলাটিকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
কাতারও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতার ওপর এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করে।
জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হামলার নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ছয় মাসেরও বেশি সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের পক্ষ থেকে কয়েক ডজন জাহাজে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
সংঘাত শুরুর পরপরই ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের হরমুজ প্রণালি ব্যবহার সীমিত করার পদক্ষেপ নেয়। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই জলপথটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পণ্য এ পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়।
ফলে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে কোনো হামলা বা নৌচলাচলে বাধা তৈরি হলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সৌদি আরব বলছে, সংঘাতের পরিবর্তে শান্তি, সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণের পথেই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
সূত্র: আরব নিউজ