দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বড়পর্দায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিনেত্রী মন্দিরা চক্রবর্তী। বর্তমানে তার হাতে রয়েছে দুটি সিনেমা। নতুন দুই চরিত্রের জন্য চলছে নিয়মিত রিহার্সাল, অভিনয়ের ক্লাস ও ওয়ার্কশপ। এরই মধ্যে একটি সিনেমার শুটিং চলতি বছরেই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
‘কাজল রেখা’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের নজরে আসেন মন্দিরা। এরপর আরিফিন শুভর সঙ্গে ‘নীলচক্র’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। সর্বশেষ ওই সিনেমায় দেখা যাওয়ার পর প্রায় এক বছর ধরে বড়পর্দায় অনুপস্থিত এই অভিনেত্রী।
তবে এই বিরতি অভিনয় থেকে দূরে থাকার জন্য নয়। বরং নতুন কাজের জন্য নিজেকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতেই সময় নিচ্ছেন মন্দিরা।
তার হাতে থাকা দুই সিনেমার মধ্যে একটির শুটিং চলতি বছর শুরু হওয়ার কথা। ইতোমধ্যে সেটির জন্য রিহার্সালও শুরু করেছেন তিনি। অন্য সিনেমাটির কাজ শুরু হবে আগামী বছর।
নতুন সিনেমা দুটির বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে চান না মন্দিরা। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে তথ্য প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিষেধ আছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে।’
নতুন চরিত্রের প্রস্তুতিতে এবার বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন এই অভিনেত্রী। আগের তুলনায় অভিনয়চর্চায় আরও বেশি মনোযোগী হয়েছেন তিনি। নিয়মিত ওয়ার্কশপ করার পাশাপাশি প্রতি মাসে অভিনয়ের ক্লাস করছেন।
মন্দিরা বলেন, ‘আমি নিয়মিত অভিনয়ের ওপর ওয়ার্কশপ করি। আগে করতাম না। এখন প্রতি মাসেই ক্লাস করছি।’
অভিনয়ের বাইরে অবসর সময়টা নিজের মতো করেই কাটাতে পছন্দ করেন মন্দিরা। খুব বেশি ঘোরাঘুরি না করে বাড়িতে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। অবসর পেলেই বই পড়েন। বিশেষ করে গল্পের বই তার পছন্দের।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখার প্রতিও তার রয়েছে বিশেষ আগ্রহ। সম্প্রতি পড়েছেন ‘নৌকাডুবি’। তবে কবিগুরুর ‘চোখের বালি’ উপন্যাসটি তার মনে সবচেয়ে বেশি দাগ কেটেছে।
‘চোখের বালি’র কোনো চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা আছে কি না—এমন প্রশ্নে মন্দিরা বলেন, আগে বাংলাদেশে এ ধরনের গল্প নিয়ে সিনেমা নির্মাণের আগ্রহ তৈরি হওয়া প্রয়োজন। তার ভাষায়, ‘এই স্বপ্ন দেখার চেয়ে বড় কথা বাংলাদেশে এরকম সিনেমা কেউ বানাতে আগ্রহী কিনা। আমার মনে হয় সে আগ্রহ থাকলে এতদিনে কেউ না কেউ বানিয়ে ফেলত।’
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বিগ্ন এই অভিনেত্রী। বিশেষ করে নারীর প্রতি সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনায় নিজের পরিবারকে নিয়েও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন বলে জানান তিনি।
মন্দিরা বলেন, ‘দেশের এই পরিস্থিতি দুশ্চিন্তায় ভোগায়। বাবা-মাকে নিয়ে রাস্তায় বের হতে ভয় করে। আমি মনে করি ক্ষমতায় যেই থাকুক সাধারণ মানুষ ও নারীদের নিরাপত্তার দিকে গুরুত্ব বেশি দেওয়া উচিত। যেন জনগণের কোনো ক্ষতি না হয়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী শিল্পীদের নানা ধরনের মন্তব্য ও হেনস্তার বিষয়টিও তার নজরে আসে। তবে এসব মন্তব্য এখন আর ব্যক্তিগতভাবে নেন না মন্দিরা। তার মতে, একজন মানুষের মন্তব্যের মধ্য দিয়েই অনেক সময় তার ব্যক্তিত্ব ও মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, ‘আমি ভালো-মন্দ দুটোকেই ভালোভাবে নেই। সবাই যে আমাকে পছন্দ করবে এমন কোনো কথা নেই। তাছাড়া কমেন্টের মাধ্যমে ব্যক্তিত্ব স্পষ্ট হয়। ইতিবাচক বা নেতিবাচক মন্তব্যের মাধ্যমে মানুষের চিন্তাধারা, মানসিকতা সামনে আসে।’
এদিকে সামনে পূজা এলেও এখনো বিশেষ কোনো পরিকল্পনা করেননি মন্দিরা। শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে আপাতত তার ব্যস্ততা নতুন দুই সিনেমার প্রস্তুতি ঘিরেই। দীর্ঘ বিরতির পর তাড়াহুড়ো করে নয়, চরিত্রকে বুঝে এবং নিজেকে আরও প্রস্তুত করেই বড়পর্দায় ফিরতে চান মন্দিরা। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেই জানা যাবে, কোন গল্প ও চরিত্র দিয়ে নতুন করে দর্শকের সামনে হাজির হচ্ছেন এই অভিনেত্রী।