
সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিসকেকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি। বৈঠকে দুই নেতা ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকের একপর্যায়ে মোদি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ কোনোভাবেই মানবতার জন্য কল্যাণকর নয়। যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মোদি বলেন, “আমাদের অন্তহীন যুদ্ধ থেকে সরে এসে যুদ্ধ বন্ধের দিকে এগোতে হবে।”
এর জবাবে পুতিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি, আপনাকে ধন্যবাদ। আমরা সেদিকেই এগোচ্ছি।”
২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরপর চার বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংঘাতের স্থায়ী অবসান হয়নি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
বৈঠকে মোদি যুদ্ধের মানবিক ক্ষতির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তার মতে, সংঘাত যত দীর্ঘ হয়, ততই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। অন্যদিকে শান্তির পথে প্রতিটি অগ্রগতি মানুষের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি করে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে আরও পিছিয়ে দেয়। বিপরীতে শান্তির দিকে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ মানবতার জন্য নতুন আশা ও উদ্দীপনা তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটানো শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নয়, পুরো মানবতার স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়ার বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেনের হামলা বেড়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে আরও কঠোর পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুতিন।
ফলে একদিকে যখন কূটনৈতিক পর্যায়ে শান্তির বার্তা জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মোদি-পুতিনের বৈঠক ইউক্রেন সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।