রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, বর্জ্যকে আবর্জনা হিসেবে না দেখে সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। উৎসস্থলেই পচনশীল ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য আলাদা করা গেলে তা থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস, কংক্রিটের ইট এমনকি তেলও উৎপাদন সম্ভব।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর হাজারীবাগ বউবাজার বালুর মাঠে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলে শুরুতেই তা আলাদা করতে হবে। পচনশীল বর্জ্য একদিকে এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য অন্যদিকে রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে মাতুয়াইলে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ডাম্পিং ডিপোতে শিগগিরই একটি পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে। পর্যায়ক্রমে ওয়ার্ড পর্যায়েও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে এ ধরনের পাইলট প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এজন্য নাগরিকদেরও নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে দায়িত্বশীল হতে হবে।
আবদুস সালাম বলেন, শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে নগরীর সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। জনগণের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও এনজিওগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের মতো সংগঠনগুলো শুধু সমালোচনা না করে সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করলে নগরীর বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।
রাজধানীকে ‘ক্লিন ও গ্রিন’ রাখতে নাগরিকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ড্রেনে পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, একটি পলিথিনও কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণ হতে পারে। ড্রেনে পলিথিন জমে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
পুরান ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের কারণে অনেক ড্রেন অকেজো ও বন্ধ হয়ে গেছে। ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থাও অনেক জায়গায় একাকার হয়ে আছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে না পেরে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
এ সমস্যা সমাধানে পুরো ড্রেনেজ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। নিউমার্কেট ও এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় জলাবদ্ধতা কমাতে ইতোমধ্যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আগামী বছর যাতে জলাবদ্ধতা কমানো যায়, সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে।
ভবিষ্যতে ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’-এর মতো কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করা গেলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। পাশাপাশি বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুবিধাও পাওয়া সম্ভব।
মশক নিধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় বর্তমানে মশার উপদ্রব অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের নিচে ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখানে মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। এ বিষয়ে নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
রাজধানীর যানজট প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং ফুটপাত দখল করে হকারদের বসার কারণে যানজট বাড়ছে। এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।
হকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারাও এ দেশের নাগরিক। ঢাকা শহর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তাদেরও রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়, যা ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলছে।
তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ভূগর্ভস্থ ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরবাসীকে বাড়িঘর ও আশপাশের রাস্তা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি যেকোনো সমস্যা সিটি কর্পোরেশনকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে ময়লা জমে থাকা, সড়কের বাতি নষ্ট হওয়া কিংবা সিটি কর্পোরেশনের কোনো কর্মীর দায়িত্বে অবহেলার বিষয় জানাতে নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মাহবুবুর রহমান তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখতে সারা বছর প্রতি মাসে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১০০টি কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া আগামী সপ্তাহে গুলিস্তানে একটি স্থায়ী স্টল উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে শিশু ও পথশিশুদের জন্য ছোট লাইব্রেরি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।