জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে স্কুলশিক্ষিকা রনজিনা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল সন্দেহভাজন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার এক সহযোগীকেও। এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
রবিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. মোশারফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজী ওরফে প্যারা পনি এবং তার সহযোগী সেড্রিককে গ্রেপ্তার করে র্যাব-২।
বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
র্যাবের ভাষ্য, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তারা জানতে পারে, রনজিনা পারভীন হত্যা মামলার সন্দেহভাজন ছিনতাইকারীরা পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকায় অবস্থান করছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে প্যারা পনি ও তার সহযোগীকে আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন (৫৫) স্বামীর সঙ্গে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাচ্ছিলেন।
তারা রিকশাযোগে ফার্মগেটের ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যাওয়ার পথে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ছিনতাইকারী তার ব্যাগ ধরে টান দেয়।
ছিনতাইকারীদের টানে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান রনজিনা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আব্দুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা দুই ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার প্যারা পনি একজন পেশাদার ছিনতাইকারী। রাজধানীর তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক বিক্রি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন তিনি।
র্যাব জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ১৩টি মামলা রয়েছে।
এর মধ্যে হাতিরঝিল, আদাবর ও কাফরুল থানায় মাদকের তিনটি মামলা রয়েছে। ভাটারা, মোহাম্মদপুর, কাফরুল, বাড্ডা ও শাহজাহানপুর থানায় চুরি, সিঁধেল চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ছয়টি মামলা রয়েছে।
এ ছাড়া আদাবর, খিলগাঁও ও কামরাঙ্গীরচর থানায় চুরি ও সিঁধেল চুরির তিনটি এবং চাঁদপুর মডেল থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাবের হাতে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটির মালিক রাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন মোটরসাইকেলটি পনি গাজীর হেফাজতে ছিল।
নিহত রনজিনা পারভীনের স্বামী আব্দুল মতিনও ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
গ্রেপ্তার দুইজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।