
জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌর শহরের দক্ষিণ বাজার এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হোটেলসহ সাতটি দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। এতে দোকানগুলোর কোনো মালামালই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ব্যবসায়ীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাত সোয়া ১২টার দিকে বকশীগঞ্জ পৌর শহরের দক্ষিণ বাজার এলাকায় বড় মসজিদসংলগ্ন একটি মুদি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আগুনের খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন প্রথমে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডে রিপন মদকের মুদি দোকান, মো. মানিক মিয়ার হোটেল জমজম, পাশের জংশের আলী ও জহুরুলের লেপ-তোশকের দোকান, একটি প্লাস্টিকের দোকানসহ সাতটি দোকান পুড়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় দোকানগুলোর মালামাল, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই দোকানগুলোর অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যাওয়ায় কোনো কিছুই বের করে আনা সম্ভব হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত মুদি দোকানের মালিক রিপন মদক বলেন, ‘আমার দোকানে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল ছিল। আগুন লাগার পর কিছুই বের করতে পারিনি। চোখের সামনে সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। এখন আমি নিঃস্ব।’
হোটেল জমজমের মালিক মো. মানিক মিয়া বলেন, ‘আমার হোটেলের মালামাল, ঘর ও সরঞ্জামসহ প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে আমার ব্যবসা শেষ হয়ে গেল।’
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মধ্যবাজারের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। রাতের সময় হওয়ায় দোকানগুলো বন্ধ ছিল এবং ভেতরে থাকা মালামাল বের করার সুযোগও পাননি ব্যবসায়ীরা।
বকশীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার হাসান আলী বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমাদের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। দোকানগুলোতে গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বিলম্ব হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত করে বিস্তারিত বলা যাবে।’
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।