রোববার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম আপডেট: ৩০.০৮.২০২৬ ১০:৪০ এএম
সংগৃহীত ছবিহবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও মারামারির ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাদের একাডেমিক কার্যক্রম ও ছাত্রাবাস থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও ৫ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিন্নুল বারী স্বাক্ষরিত ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের এক অফিস আদেশে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস-১-এ অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। ঘটনার পর বিষয়টি তদন্তে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটি গত ২৭ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে দাখিল করে। একই দিন অনুষ্ঠিত ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। পরে ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ২২তম সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শাস্তির সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়।
যেসব শাস্তি দেওয়া হয়েছে
অফিস আদেশ অনুযায়ী, শরীফ উদ্দিন খান (রোল-৪৪, ৭ম ব্যাচ, শিক্ষাবর্ষ ২০২৩-২০২৪)-কে ৭ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রজব সানি (রোল-৪৫, ৭ম ব্যাচ, শিক্ষাবর্ষ ২০২৩-২০২৪)-কে ৪ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আশীষ চন্দ্র চন্দ (রোল-৫০, ৭ম ব্যাচ, শিক্ষাবর্ষ ২০২৩-২০২৪)-কে ২ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আব্দুল্লাহ আবু আফফাজ (রোল-৬৩, ৮ম ব্যাচ, শিক্ষাবর্ষ ২০২৪-২০২৫)-কে ১৮ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মো. রায়হান আলী (রোল-৫৩, ৮ম ব্যাচ, শিক্ষাবর্ষ ২০২৪-২০২৫)-কে ১ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাট (রোল-১৬, ৮ম ব্যাচ, শিক্ষাবর্ষ ২০২৪-২০২৫)-কে ১ বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ফারদিন রহমান ইফতি (রোল-৪৭, ৮ম ব্যাচ, শিক্ষাবর্ষ ২০২৪-২০২৫)-কে ৬ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ছাড়া মো. আকিব মাহমুদ (রোল-১৪, ৪র্থ ব্যাচ, শিক্ষাবর্ষ ২০২০-২০২১)-কে ১ বছরের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আরও ৫ শিক্ষার্থীকে সতর্কতা
অফিস আদেশে আরও পাঁচ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন ডি. এম. এ. নাঈফ রাজা চৌধুরী (রোল-৪৪, ৮ম ব্যাচ), মো. আকিব মাহমুদ (রোল-১৪, ৪র্থ ব্যাচ), মো. অরণ্য হাসান রিয়ন (রোল-৩১, শিক্ষাবর্ষ ২০২২-২০২৩), মো. ইমতিয়াজ আলম ভূঁইয়া (রোল-০২, শিক্ষাবর্ষ ২০২২-২০২৩) এবং মাহমুদ খান (রোল-২১, শিক্ষাবর্ষ ২০২২-২০২৩)।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, এসব শিক্ষার্থীকে ঘটনার ‘ইন্ধনদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো প্রকার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের আদেশ অনুযায়ী, উল্লেখিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে।