কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও কঠোর হচ্ছে মেটা। নতুন নিয়মে Meta Platforms-এর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে দৈনিক সময়সীমা, রাতের ব্যবহার, নোটিফিকেশন, কনটেন্ট এবং অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগে বাড়তি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ও কয়েকটি মার্কিন অঞ্চলের সঙ্গে করা সমঝোতার অংশ হিসেবে এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার কিশোরদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করতে পারে—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এই উদ্যোগ।
মেটা জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন ফিচারগুলোর বেশিরভাগ চালু করা হবে। তবে বয়স যাচাইয়ের কিছু পরিবর্তন কার্যকর করতে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
দিনে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা
নতুন ব্যবস্থায় কিশোর-কিশোরীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের দৈনিক সীমা ডিফল্টভাবে দুই ঘণ্টা রাখা হবে। তবে অভিভাবক চাইলে প্যারেন্টাল সেটিংস ব্যবহার করে সন্তানকে আরও বেশি সময় অ্যাপ ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারবেন।
এ ছাড়া রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপ দুটির ব্যবহার বন্ধ রাখার ব্যবস্থা থাকবে।
স্কুল সময়েও আসবে না নোটিফিকেশন
কিশোরদের পড়াশোনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব কমাতে নোটিফিকেশন ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নোটিফিকেশন নীরব থাকবে। ফলে স্কুল চলাকালীন সময়ে বারবার নোটিফিকেশনের কারণে মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সুযোগ কমবে।
দীর্ঘ সময় অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক করা হবে। টানা ১৫ মিনিট ব্যবহারের পর প্রথম সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। এরপর ৬০ মিনিট ও ৯০ মিনিট ব্যবহারের পর আবার সতর্কবার্তা আসবে।
অটোপ্লে বন্ধের সুযোগ
নতুন নিয়মে প্রথমবারের মতো কিশোর ব্যবহারকারীরা অটোপ্লে বন্ধ করতে পারবেন। ফলে ফিড স্ক্রল করার সময় ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে না।
চাইলে অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্যক্তিগত পছন্দ ও আগের অনলাইন কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে তৈরি করা ফিডও বন্ধ করা যাবে। এতে ব্যবহারকারীরা তাদের আগের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে বাছাই করা কনটেন্টের পরিবর্তে তুলনামূলক সাধারণ ফিড দেখতে পারবেন।
পাশাপাশি কিশোরদের পোস্টের লাইক সংখ্যা লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। কসমেটিক সার্জারির অনুকরণ করে তৈরি কিছু অতিরিক্ত মেকআপ ফিল্টার ও ইফেক্ট ব্যবহারের সুযোগও সীমিত করা হবে।
অপরিচিতদের যোগাযোগেও কড়াকড়ি
অপরিচিত ও প্রাপ্তবয়স্কদের অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ থেকে কিশোরদের সুরক্ষায় নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করা হবে। প্রাপ্তবয়স্করা যাতে সহজে কিশোরদের মেসেজ পাঠাতে বা তাদের কনটেন্ট দেখতে না পারেন, সে বিষয়েও বিধিনিষেধ বাড়ানো হচ্ছে।
তবে এসব সীমাবদ্ধতা ঠিক কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি মেটা।
ক্ষতিকর কনটেন্টের অভিযোগ দ্রুত পর্যালোচনা
কিশোর-কিশোরীদের জন্য ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর নতুন ব্যবস্থাও চালু করা হবে। মেটা জানিয়েছে, এ ধরনের ৯০ শতাংশ অভিযোগ ছয় ঘণ্টার মধ্যে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
অভিভাবকদের নজরদারিও থাকবে
অভিভাবকরা আগের মতোই সন্তান কতক্ষণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে, কী সার্চ করছে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে কী ধরনের যোগাযোগ করছে—এসব তথ্য দেখার সুযোগ পাবেন।
সন্তান নতুন অ্যাকাউন্ট খুললে কিংবা মেটার কাছে সন্দেহজনক মনে হয় এমন কারও সঙ্গে যোগাযোগ করলে অভিভাবকদের সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।
বয়স যাচাইয়ে জোর
কিশোর ব্যবহারকারী শনাক্ত করতে বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তিতেও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে মেটা। এর মাধ্যমে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে।
মেটা এরই মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য ‘টিন অ্যাকাউন্টস’ চালু করেছে। এর আওতায় কিশোরদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে তুলনামূলক কঠোর নিরাপত্তা সেটিংসে রাখা হয়।
নতুন পরিবর্তনগুলো কার্যকর হলে আগামী কয়েক মাসে কিশোর-কিশোরীদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।