যাত্রা শুরুর মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশে ব্যবহার হচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি ব্লকচেইন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর সোশ্যাল ও কমিউনিকেশন প্ল্যাটফর্ম ‘দেশিগ্রাম’ (DeshiGram)। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০ হাজার ব্যবহারকারী প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দেশিচেইন ইকোসিস্টেম।
বৃহস্পতিবার দেশিচেইন ইকোসিস্টেমের ফাউন্ডার ও সিইও রাহাত জিদনি ওসামা জানান, Public Beta চালুর মাত্র ১০ দিনের মধ্যে বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ২০ হাজার ব্যবহারকারী দেশিগ্রামে যুক্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে DeshiGram। প্ল্যাটফর্মটি ব্লকচেইন ও এআই প্রযুক্তির সমন্বয়ে নিরাপদ, স্মার্ট ও আধুনিক ডিজিটাল অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
দেশিগ্রামের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে ব্লকচেইন ও এআই প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে রাহাত জিদনি ওসামা বলেন, প্রচলিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরে গিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্ল্যাটফর্মে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এআই মডারেশন এবং বিভিন্ন প্রাইভেসি-কেন্দ্রিক প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে।
প্ল্যাটফর্মটিতে পোস্ট, স্টোরি, রিলস, মন্তব্য, রিয়্যাকশন, ফলো সিস্টেম ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচলিত ফিচার রয়েছে। Public Beta পর্যায় থেকেই ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে নিয়মিত আপডেট নিয়ে কাজ করছে ডেভেলপমেন্ট টিম।
রাহাত জিদনি ওসামা বলেন, দেশিগ্রাম বাংলাদেশে তৈরি হলেও শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যবহারকারীরা প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশ শুধু বিশ্বের প্রযুক্তি ব্যবহার করবে না, বরং এমন প্রযুক্তি তৈরি করবে, যা একদিন বিশ্ব ব্যবহার করবে। DeshiGram সেই দীর্ঘমেয়াদি ভিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।’
দেশিচেইন ইকোসিস্টেমের ফাউন্ডার জানান, DeshiGram-কে শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা নেই। সামাজিক যোগাযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন অবকাঠামো, ডিজিটাল পেমেন্টসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবাকে ধীরে ধীরে একই প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে Public Beta পর্যায়ে থাকা DeshiGram-এ নিয়মিত নতুন ফিচার ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন যুক্ত করার কাজ চলছে। ভবিষ্যতে নিজস্ব Large Language Model (LLM), উন্নত AI Services, Creator Monetization System, Digital Payments Integration এবং DeshiChain Blockchain-এর সঙ্গে আরও গভীর সংযুক্তি আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য শুধু আরেকটি Social Media Platform তৈরি করা নয়। DeshiGram-কে ব্লকচেইন ইন্ডাস্ট্রি ও ভবিষ্যতের বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল ব্যবস্থার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চায় দেশিচেইন ইকোসিস্টেম।
রাহাত জিদনি ওসামা জানান, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী ৮ থেকে ১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি ভিশন ও রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে তার প্রতিষ্ঠান। তার মতে, এই উদ্যোগের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল কয়েক মাসে দৃশ্যমান না হলেও আগামী কয়েক বছরে ধাপে ধাপে এর পরিধি ও সক্ষমতা বাড়বে।
বাংলাদেশ থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু একটি অ্যাপ তৈরি করা নয়; বরং ভবিষ্যতের বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল বিশ্বের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি, নির্ভরযোগ্য ও বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা।