সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ বলেছেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে পরিবারকেন্দ্রিক দলে পরিণত হয়েছে। তবে কোনো রাজনৈতিক দল কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। রাজনীতিতে ফিরতে হলে আওয়ামী লীগকে নিজেদের ভুল ও ব্যর্থতা উপলব্ধি করে আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির পথে যেতে হবে।
মাল্টিমিডিয়া, গণমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সোহেল তাজ।
আওয়ামী লীগের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দলটির কাছ থেকে তার এখন কোনো প্রত্যাশা নেই। কারণ, দলের ভেতর থেকে নিজেদের ভুল ও ‘পচন’ উপলব্ধি করার মতো কোনো পরিবর্তন তিনি দেখছেন না।
সোহেল তাজ বলেন, ‘আমার কোনো এক্সপেক্টেশন নাই এ দল থেকে। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত ভেতর থেকে এই রিয়েলাইজেশন না আসবে যে আমাদের পচন হয়েছে এবং ওই পচনটাকে কেটে ফেলে দিতে হবে—এখন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে এ ধরনের কথা শুনেছেন।’
আওয়ামী লীগকে আবার রাজনীতিতে ফিরতে হলে কী করতে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলটিকে অনুশোচনা করতে হবে এবং নিজেদের ভুল স্বীকার করে আত্মউপলব্ধি করতে হবে।
তার ভাষায়, ‘আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে হলে অনুশোচনা করতে হবে, আত্মউপলব্ধি করতে হবে, রিয়েলাইজেশন করতে হবে।’
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক অবস্থার সমালোচনা করে সোহেল তাজ বলেন, ‘আমি ভালো কিছু দেখছি না। এটা তো একটা পচন ধরা দল। এখানে থেকে কেউ বেরিয়ে আসতে পারছে না।’
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ এখন পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। অথচ একটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব নীতি ও আদর্শ থাকা প্রয়োজন। কোনো দলকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে পরিচালনা করা উচিত নয়।
সোহেল তাজ বলেন, ‘এটা একটা পরিবারকেন্দ্রিক দল হয়ে গেছে। কিন্তু একটা দল তো কারও প্রাইভেট প্রপার্টি হতে পারে না। দলের তো একটা নীতি-আদর্শ ছিল।’
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে এই চেতনাকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। তার দাবি, অনিয়ম ও দুর্নীতির পাশাপাশি গত ১৫ বছরে মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা—যেটা আমরা বারবার বলি—সেই চেতনা বিক্রি করে একটা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এতদিন। এসব অনিয়ম, দুর্নীতি—সবকিছুর বিরুদ্ধে এবং মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য এবং মুক্তিযুদ্ধকে ধ্বংস করা হয়েছে গত ১৫ বছরে।’
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে সোহেল তাজ বলেন, দলটি যদি আবার রাজনীতিতে ফিরে আসতে চায়, তাহলে সবার আগে নিজেদের ভুল স্বীকার করতে হবে। পাশাপাশি আত্মউপলব্ধি ও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে দলের ভেতরে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।
তার মতে, ভেতর থেকে বাস্তব উপলব্ধি ও পরিবর্তনের উদ্যোগ না এলে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক কিছু দেখার সুযোগ নেই।