রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৩০ আগস্ট) এক শোকবার্তায় জি এম কাদের বলেন, একটি পরিবারের চারজন মানুষকে এভাবে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। শিক্ষক দম্পতিসহ পুরো পরিবারের এমন হৃদয়বিদারক পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, এটি শুধু একটি পরিবারকে ধ্বংস করার ঘটনা নয়; বরং এ ধরনের হত্যাকাণ্ড পুরো সমাজকে নিরাপত্তাহীনতার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
জি এম কাদের আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে কারণ ও ঘটনার বিবরণ গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছে, তা নিয়ে জনমনে এবং সচেতন মহলে নানা যৌক্তিক প্রশ্ন, সংশয় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তাঁর মতে, এসব ধোঁয়াশা দ্রুত দূর করা প্রয়োজন। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর রহস্য, পূর্বপরিকল্পনা কিংবা অন্য কারও ইন্ধন ছিল কি না, তা তদন্ত করে বের করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬০), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আগামী চক্রবর্তী স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। আর প্রীয়ম স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত।
এ ঘটনায় পরদিন কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী।
পুলিশ জানায়, ওই দিন ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাতে আদালতে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার প্রকৃত বিবরণ নিয়ে যে প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন জি এম কাদের।
নিহতদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।