সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ দুঃখ প্রকাশ করায় নিজেদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। ফলে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত সাংগঠনিক কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।
এর আগে শুক্রবার মধ্যরাতে হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে হাসনাতকে বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ক্ষমা না চাইলে শনিবার এনসিপির সাংগঠনিক কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে শনিবার দুপুরে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আব্দুল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে বক্তব্য নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এরপরই কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। সংগঠনটির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল খালেক বলেন, ‘হাসনাত আব্দুল্লাহ দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের নির্ধারিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এনসিপির কর্মসূচিতে আমাদের কোনো বাধা থাকবে না।’
এর আগে শনিবার বিকেল ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির উদ্যোগে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা আয়োজনের কথা ছিল। তবে অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত সেখানে অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানিয়েছেন, এনসিপি শিল্পকলা একাডেমিতে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানের কথা জানিয়েছিল। রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়টি জানানো হয়নি। শিল্পকলা একাডেমিতে রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিবাদ ও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা আসে।