জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, সরকারে যারা রয়েছেন, জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হবে। আগের সরকারের ব্যর্থতা বা দোষ দেখিয়ে বর্তমান সরকার কোনোভাবেই নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয় ‘দক্ষিণায়ন’-এ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, দেশে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। বিচার হবে না, এমন ধারণা থেকেই অপরাধীরা একের পর এক অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে। তাই অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ব্যাংকিং খাতের নানা সমস্যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, সরকার সফল হোক, এটা তারা চান, আমরাও চাই। তবে দেশের স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে খেয়ে-পরে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারে, সরকারকে সেই ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে কার্যকর ও অর্থবহ করতে হলে শুধু সরকার নয়, বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক দলকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের কথা বলার সুযোগ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। তবে এই মতপার্থক্য যেন রাজনৈতিক সংঘাত বা বিভাজনে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। দেশের স্বার্থকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাহিদুর রহমান টেপা ও সুনীল শুভ রায়সহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত মাসরুর মাওলা, প্রেসিডিয়াম সদস্য জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো. শাহজাহান, ইয়াহ ইয়া চৌধুরী, শেখ মাতলুব হোসেন লিয়ন, নাজনীন সুলতানাসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আলোচনা সভা শেষে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন গুলশান আজাদ মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা আহসান উল্লাহ।