সরকারি ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা ১৫ মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এ রায় দেন। মির্জা আব্বাসের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের করা মামলাগুলোতে অভিযোগ ছিল, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় সরকারি ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি সাজানো দরপত্রের মাধ্যমে অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রি করে সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা ক্ষতি করা হয়েছে।
২০০৭ সালের ২৯ মার্চ এ ঘটনায় মির্জা আব্বাসসহ ২১ জনকে আসামি করে পৃথক ১৫টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে তদন্ত শেষে একই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে প্রকৃত দামের তুলনায় কম মূল্যের সাজানো দরপত্রের মাধ্যমে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এতে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা লাভবান হন বলে অভিযোগ করে দুদক।
মির্জা আব্বাস ছাড়াও খালাস পাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সাদেক, হুমায়ন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী ও মো. শহীদ আলম।
এ ছাড়া মামলাগুলোতে পৃথকভাবে আসামি করা অন্য ব্যক্তিরাও আদালতের রায়ে খালাস পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আহমেদ আকবর সোবহান, মেহেদী হাসান, শফিকুর রহমান কিরন, নুরুচ্ছাফা, মো. শুকুর মিয়া, হাসনা আহমেদ ও আলী হায়দার চৌধুরী।
দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রমে আদালত ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সবশেষে বৃহস্পতিবার মামলাগুলোর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিদের খালাস দেন আদালত।