জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যু এবং জনদুর্ভোগের বিষয় সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবারের অধিবেশনকে ঘিরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অধিবেশনে জনজীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে—এমন বেশ কিছু বিষয় সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গ্যাসের সংকট, বিদ্যুৎ ঘাটতি ও ঘন ঘন লোডশেডিং নিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সরকারের কাছে জবাবদিহি চাইতে পারেন। এসব ইস্যুতে সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের ভূমিকা এবার বেশ জোরালো হতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
এ ছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিতর্কিত ও কথিত দলীয় নিয়োগের অভিযোগ নিয়েও বিরোধী সংসদ সদস্যরা প্রশ্ন তুলতে পারেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা গড়াতে পারে সংসদে।
সংসদ ভবন ঘিরে কড়া নিরাপত্তা
অধিবেশনকে সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শেরেবাংলা নগরসহ সংসদ ভবনসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সংসদ ভবন এলাকায় অননুমোদিত জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অস্ত্র, বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর কোনো বস্তু বহনের ওপরও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শেরেবাংলা নগর, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, বাংলামটর ও শ্যামলী মোড়সহ রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি সন্দেহজনক চলাচল পর্যবেক্ষণে তৎপর রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।
সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) মাধ্যমে নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। অধিবেশন চলাকালে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বিধিনিষেধ অমান্য করে কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে জনদুর্ভোগের ইস্যু, প্রশাসনে নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক এবং চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েন—এই তিনটি বিষয় এবারের অধিবেশনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসতে পারে। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরুর আগেই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।