আজ তিনি ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রী। তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, কন্নড় ও হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন নয়নতারা। তবে তারকা হয়ে ওঠার পথটি মোটেও সহজ ছিল না। কৈশোরের আত্মবিশ্বাসের অভাব, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সংগ্রাম আর অনিশ্চয়তা পেরিয়েই আজকের সাফল্যে পৌঁছেছেন তিনি।
সম্প্রতি ‘দ্য পার্লে মানি শো’-তে নিজের শৈশব ও ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন নয়নতারা।
অভিনেত্রী জানান, তার বাবা ভারতীয় বিমান বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। বাবার চাকরির সুবাদে ছোটবেলা থেকেই ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করতে হয়েছে তাকে। দিল্লি ও গুজরাটে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে বেড়ে ওঠেন তিনি।
দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় নিজেকে ভীষণ আত্মবিশ্বাসহীন মনে হতো বলে জানান নয়নতারা। দিল্লি ও গুজরাটের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে পড়ার সময় বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হলেও সেখানে নিজেকে আলাদা মনে হয়নি তার।
কিন্তু বাবা অবসর নেওয়ার পর পরিবার কেরলে ফিরে গেলে বদলে যায় পরিস্থিতি। নতুন স্কুল ও পরিবেশে নিজেকে অনেকটাই বেমানান মনে হতে থাকে। সহপাঠীদের অনেকেই দুবাই ও আবুধাবি থেকে ফিরে আসা পরিবারের সন্তান হওয়ায় তাদের জীবনযাপনও ছিল নয়নতারার অভিজ্ঞতা থেকে ভিন্ন।
একপর্যায়ে নিজেকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে ‘বাইরের মানুষ’ বলে মনে হতে থাকে তার। এমনকি কেরলে ফিরে আসাটাকেও ভুল সিদ্ধান্ত মনে হয়েছিল। তখন দিল্লি ও গুজরাটের স্কুলের শিক্ষক-বন্ধুদের উষ্ণতা খুব মনে পড়ত বলে জানান অভিনেত্রী।
নয়নতারা বলেন, সেই সময়ে তার মনে হতো তিনি কোনো কিছুতেই যথেষ্ট ভালো নন। পড়াশোনায় খারাপ না হলেও নিজেকে কখনো খুব ভালো ছাত্রী মনে করতেন না। এখনকার নয়নতারা যদি ১৫ বছর বয়সী সেই কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে পারতেন, তাহলে তাকে শুধু বলতেন ‘তুমি পারবে।’
কলেজে পড়ার সময় ফ্যাশন ইভেন্টে মডেলিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ারের প্রথম ধাপে পা রাখেন নয়নতারা। ‘ভানিতা’ পত্রিকার একটি ফ্যাশন অনুষ্ঠানে মডেলিং ছিল তার প্রথম কাজ। এর পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন মাত্র ২ থেকে ৩ হাজার টাকা।
সেই সময় পরিচালক সত্যন অন্তিক্কাডের নজরে পড়েন তিনি। ২০০৩ সালে ‘মনসিনাক্কারে’ সিনেমায় গৌরী চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান নয়নতারা।
তবে শুরুতে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না তার। একটি সিনেমায় অভিনয় করেই থেমে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু সিনেমাটি বক্স অফিসে সফল হওয়ার পর বদলে যায় তার পরিকল্পনা। ছবিটি ১০০ দিনেরও বেশি সময় প্রেক্ষাগৃহে চলেছিল।
এরপর ফাজিলের ‘ভিস্ময়াথুম্বাথু’ সিনেমায় মোহনলালের বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ পান নয়নতারা। দর্শকদের প্রশংসা পাওয়ার পর অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ আরও বাড়তে থাকে।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় একের পর এক সফল ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করেন নয়নতারা। পরবর্তী সময়ে হিন্দি সিনেমায় কাজ করে সর্বভারতীয় তারকা হিসেবেও পরিচিতি পান তিনি।
মাত্র ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পারিশ্রমিকে ক্যারিয়ার শুরু করা সেই অভিনেত্রী এখন সিনেমাপ্রতি কোটি কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন। জানা গেছে, তার পরবর্তী সিনেমা ‘টক্সিক: এ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’-এ অভিনয়ের জন্য প্রায় ১২ থেকে ১৮ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছেন নয়নতারা।
আত্মবিশ্বাসহীন এক কিশোরী থেকে ভারতের অন্যতম সফল অভিনেত্রী হয়ে ওঠার এই যাত্রাই যেন নয়নতারার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণার গল্প।