একজন শিক্ষক একজন কিশোর শিক্ষার্থীর জন্মদিনে কেক কাটছেন। আনন্দের মুহূর্ত। চারপাশে হাসি, ছবি তোলা, শুভেচ্ছা। তারপর এমন এক আচরণ ঘটল, যা দেখে অনেকেরই অস্বস্তি হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে প্রশ্ন উঠল- একজন শিক্ষক একজন শিশুর সঙ্গে শারীরিক ও ব্যক্তিগত সীমারেখা কতটা অতিক্রম করতে পারেন? ঘটনাটি সত্যি কী, ভিডিওটি সম্পূর্ণ কিনা, এর পেছনে অন্য কোনো প্রেক্ষাপট আছে কিনা- এসবের উত্তর তদন্তেই মিলবে। কিন্তু একটি বিষয় তদন্তের আগেই পরিষ্কার: শিশুর শরীর ও ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি শ্রদ্ধা কোনো ‘মজা’, ‘স্নেহ’ বা ‘ফান’ বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার বিষয় নয়।
আর এখানেই সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি হলো- আমরা কি কেবল মেয়েশিশুর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করি, ছেলেশিশুর নিরাপত্তাকে স্বাভাবিক ধরে নিই?
এই ধারণাটি ভয়ংকরভাবে ভুল। ২০২৪ সালের ইউনিসেফের বৈশ্বিক হিসাব বলছে, শৈশবে যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে বর্তমানে জীবিত প্রায় ৪১০ থেকে ৫৩০ মিলিয়ন ছেলে ও পুরুষ- অর্থাৎ আনুমানিক প্রতি সাতজনে একজন। তাদের মধ্যে ২৪০ থেকে ৩১০ মিলিয়ন শৈশবে ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। মেয়েশিশু ও নারীদের ক্ষেত্রে শৈশবে যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার আনুমানিক সংখ্যা ৬৫০ মিলিয়ন, অর্থাৎ প্রতি পাঁচজনে একজন।
সংখ্যাগুলো কেবল পরিসংখ্যান নয়। এগুলো আমাদের সেই সামাজিক ভুল ধারণার বিরুদ্ধে দাঁড় করায় যে, ছেলে ‘শক্ত’, তাই তার সঙ্গে যৌন নিপীড়ন ঘটবে না; কিংবা ঘটলেও সেটা মেয়েদের মতো গুরুতর নয়। বাস্তবে যৌন নির্যাতন শিশুর লিঙ্গ দেখে তার ক্ষতি কমিয়ে দেয় না।
বাংলাদেশের চিত্রও স্বস্তিদায়ক নয়। ২০২৫ সালের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে অনুযায়ী, ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ৮৫ দশমিক ৭ শতাংশ গত এক মাসে অভিভাবক বা পরিচর্যাকারীর কাছ থেকে শারীরিক শাস্তি অথবা মানসিক আগ্রাসনের অভিজ্ঞতা পেয়েছে। অর্থাৎ শিশুর প্রতি সহিংসতাকে স্বাভাবিক মনে করার যে সামাজিক সংস্কৃতি, তার ভিত্তি এখনো অত্যন্ত শক্ত।
আর যৌন সহিংসতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো- আমাদের হাতে যে সংখ্যা আছে, তার চেয়ে বাস্তব সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার আশংকা আছে। কারণ যৌন নির্যাতন এমন অপরাধ, যা শিশুরা অনেক সময় বলতে পারে না, বলতে ভয় পায়, লজ্জা পায় অথবা বিশ্বাসই করে না যে বড়রা তাকে বিশ্বাস করবে। বিশেষ করে ছেলেশিশুর ক্ষেত্রে ‘ছেলেরা কাঁদে না’, ‘পুরুষকে কেউ যৌন নির্যাতন করতে পারে না’, ‘এতে লজ্জার কী আছে’-এ ধরনের সামাজিক ধারণা তাকে আরও নীরব করে দেয়।
বাংলাদেশের সংবাদভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণের তথ্যও আমাদের চোখ খুলে দেওয়ার মতো। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যম ও তাদের নিজস্ব নথিতে ৪৮ জন ছেলেশিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনা রেকর্ড হয়েছে; এর মধ্যে ৩১টি ঘটনায় মামলা হয়েছে। একই বছরে শিক্ষকের হাতে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ৮২টি ঘটনা এবং শিক্ষকের দ্বারা যৌন হয়রানির ৫১টি ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে; শিক্ষকের যৌন হয়রানির ঘটনায় মামলা হয়েছে মাত্র ৭টিতে।
এখানে একটি সংখ্যা বিশেষভাবে আমাদের থামিয়ে দেয়- শিক্ষকের যৌন হয়রানির ৫১টি নথিবদ্ধ ঘটনার বিপরীতে মামলা মাত্র ৭টি। অবশ্য মামলা না হওয়ার প্রতিটি কারণ একই নয় এবং সংবাদভিত্তিক পরিসংখ্যানও মোট ঘটনার পূর্ণ চিত্র নয়। তবু সংখ্যাটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে: শিশুদের জন্য যে প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা, সেখানে অভিযোগ ওঠার পর জবাবদিহির ব্যবস্থা কতটা কার্যকর?
আরও উদ্বেগের বিষয়, ২০২৬ সালেও পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির কোনো নিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে না। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশে অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ৪৬ শিশু ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে এবং ধর্ষণের পর বা ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে অন্তত ১৭ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। একই বিবৃতিতে সংস্থাটি শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও দুর্বল তদন্তের কথা উল্লেখ করেছে।
ইউনিসেফও ২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশে শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো শিশু ধর্ষণের প্রায় ৫০টি ঘটনা নথিবদ্ধ করেছিল। ইউনিসেফ একই সঙ্গে বলেছিল, বাংলাদেশে যৌন সহিংসতার অপরাধীরা প্রায়ই ভুক্তভোগী শিশুর পরিচিত মানুষ।
এই ‘পরিচিত মানুষ’ কথাটিই সম্ভবত আমাদের সবচেয়ে বেশি ভাবতে হবে।
শিশুদের বিপদ সব সময় অন্ধকার গলি থেকে আসে না। কখনো আসে পরিচিত বাড়ি থেকে, কখনো আত্মীয়ের কাছ থেকে, কখনো প্রতিবেশীর কাছ থেকে, কখনো পরিবারের পরিচিত মানুষের কাছ থেকে, কখনো এমন একজনের কাছ থেকে যার হাতে বাবা-মা নিশ্চিন্তে সন্তানকে তুলে দেন। আর কখনো সেই মানুষটি হতে পারেন শিক্ষক- যার কাছে সন্তানকে প্রতিদিন পাঠিয়ে অভিভাবক ধরে নেন, ‘আমার সন্তান নিরাপদ।’
সেই বিশ্বাসই যদি অপব্যবহৃত হয়, তাহলে ক্ষতিটা শুধু শিশুর ওপর হয় না; ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা।
তবে এখানে সতর্কতা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও দেখে কাউকে ‘পেডোফাইল’ ঘোষণা করা যেমন দায়িত্বশীল আচরণ নয়, তেমনি কোনো অস্বস্তিকর আচরণকে ‘মজা’ বলে উড়িয়ে দেওয়াও দায়িত্বশীলতা নয়। পেডোফিলিয়া একটি নির্দিষ্ট যৌন আকর্ষণসংক্রান্ত ক্লিনিক্যাল ধারণা; আর কোনো প্রাপ্তবয়স্কের শিশুর প্রতি যৌন হয়রানি বা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তার আচরণ, প্রমাণ ও আইনি তদন্তের ভিত্তিতে বিচার করতে হবে। আমাদের দরকার না জনতার আদালত, না প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ধামাচাপা- দরকার নিরপেক্ষ, দ্রুত ও শিশুবান্ধব তদন্ত।
বিশেষ করে কোনো শিক্ষককে ঘিরে অভিযোগ উঠলে প্রতিষ্ঠানের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের আগে তাকে অপরাধী ঘোষণা করার প্রয়োজন নেই; কিন্তু তদন্ত চলাকালে শিশুর সঙ্গে তার একান্ত যোগাযোগ বন্ধ রাখা, প্রয়োজন হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া, শিশুকে নিরাপদ পরিবেশ দেওয়া এবং অভিযোগকারীকে ভয়ভীতি বা সামাজিক চাপ থেকে রক্ষা করা- এসবকে ‘অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া’ বলা যাবে না।
কারণ শিশুর নিরাপত্তায় সতর্কতার মূল্য কখনো অতিরিক্ত নয়।
আর আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই জায়গাটিই সবচেয়ে দুর্বল। শিক্ষক নিয়োগের সময় যোগ্যতা যাচাই হয়, সনদ যাচাই হয়, অভিজ্ঞতা দেখা হয়; কিন্তু শিশু সুরক্ষার জন্য একজন শিক্ষকের আচরণগত সক্ষমতা, safeguarding training, শিশুর ব্যক্তিগত সীমারেখা বোঝার ক্ষমতা এবং অভিযোগ ব্যবস্থার বিষয়ে তার জ্ঞান কতটা গুরুত্ব পায়? প্রতিটি স্কুলে কি child safeguarding policy আছে? শিশুরা কি জানে, কোনো শিক্ষক, কোচ, কর্মকর্তা বা পরিচিত প্রাপ্তবয়স্কের আচরণে অস্বস্তি হলে কাকে বলবে? অভিযোগ করলে কী হবে- তা কি তারা জানে?
আরও একটি বড় ঘাটতি হলো, আমাদের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা এখনো অনেকাংশে ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া জানানোর ব্যবস্থা; কিন্তু প্রয়োজন ঘটনার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করার ব্যবস্থা।
শিশুকে শেখাতে হবে- ‘তোমার শরীর তোমার।’ কে আত্মীয়, কে শিক্ষক, কে বড় মানুষ- তা গুরুত্বপূর্ণ নয়; কেউ যদি এমনভাবে স্পর্শ করে যাতে তুমি অস্বস্তি বোধ করো, তুমি ‘না’ বলতে পারবে। কোনো বড় মানুষ তোমাকে বললে, ‘এটা কাউকে বলবে না’- সেটিও সতর্ক হওয়ার কারণ। একই সঙ্গে শিশুকে এটাও শেখাতে হবে যে কোনো অস্বস্তিকর ঘটনার জন্য সে দায়ী নয়।
অভিভাবকদেরও বদলাতে হবে। ছেলে সন্তানকে ‘পুরুষ মানুষ’ বানানোর নামে তার কান্না, ভয়, অস্বস্তি ও লজ্জাকে চেপে দেওয়া যাবে না। একজন ছেলে যদি বলে, ‘স্যার আমাকে অদ্ভুতভাবে ধরেছেন’, ‘আঙ্কেল আমাকে এভাবে ছুঁয়েছেন’, ‘আমি ওই জায়গায় যেতে চাই না’- তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত তাকে বিশ্বাস করে শোনা; জেরা করা নয়, বকাঝকা করা নয়, ‘তুমি ভুল বুঝেছ’ বলা নয়।
কারণ নির্যাতিত শিশুর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন প্রথমে বিচার নয়- বিশ্বাস।
আমাদের মনে রাখতে হবে, শিশুর যৌন নির্যাতনের ক্ষতি শরীরের দৃশ্যমান আঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। ভয়, অপরাধবোধ, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা, আত্মসম্মানহীনতা, বিষণ্নতা, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু যদি প্রথমবার সাহায্য চাইতে গিয়ে অবিশ্বাস, উপহাস, বকুনি বা সামাজিক অপমানের মুখোমুখি হয়, তাহলে সে পরবর্তী সময়ে আর কাউকে বলার সাহস নাও করতে পারে।
তাই ভাইরাল ভিডিওটির প্রশ্ন শুধু ‘ওই শিক্ষক কী করেছেন?’- এতটুকু নয়। প্রশ্ন আরও বড়: আমাদের স্কুলগুলোতে শিশুর নিরাপত্তার সীমারেখা কে পাহারা দিচ্ছে?
২০২৬ সালের মে মাসে আইন ও সালিশ কেন্দ্র স্পষ্টভাবে বলেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক পরিবেশ ও ডিজিটাল পরিসরে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
এখন প্রয়োজন কথাটিকে নীতিতে এবং নীতিকে বাস্তবে পরিণত করা।
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক child safeguarding policy থাকতে হবে। শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। অভিযোগ জানানোর স্বাধীন, গোপনীয় ও শিশুবান্ধব ব্যবস্থা থাকতে হবে। অভিযোগ উঠলে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কমিটি দিয়ে বিষয়টি চেপে না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করতে হবে। শিশুর বক্তব্য গ্রহণের সময় প্রশিক্ষিত পেশাজীবী থাকতে হবে, যাতে একই ঘটনা নিয়ে শিশুকে বারবার বলতে না হয়। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগের আশঙ্কাকে অজুহাত বানিয়ে সত্যিকারের অভিযোগকে থামিয়ে দেওয়া যাবে না।
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- ছেলে শিশুদের বাদ দিয়ে কোনো শিশু সুরক্ষা নীতি পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না।
ইউনিসেফের বৈশ্বিক পরিসংখ্যান যখন বলছে, শৈশবে যৌন সহিংসতার শিকার হওয়া ছেলে ও পুরুষের সংখ্যা কয়েক শ কোটি নয়, কয়েক শ মিলিয়ন- তখন ‘ছেলেদের এসব হয় না’ ধারণাটি আর কুসংস্কার ছাড়া কিছু নয়।
আমাদের ভয় পাওয়ার দরকার নেই। দরকার চোখ খোলা রাখা। কাউকে অকারণে পেডোফাইল বানানো নয়, আবার শিশুর অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতাকেও ‘দুষ্টুমি’ বা ‘মজা’ বলে চাপা দেওয়া নয়। দরকার প্রমাণ, তদন্ত, জবাবদিহি এবং সর্বোপরি শিশুর নিরাপত্তা।
একজন শিশু যখন স্কুলে যায়, তার হাতে শুধু বই-খাতা থাকে না- থাকে তার বাবা-মা, অভিভাবকের সবচেয়ে বড় বিশ্বাসটিও। সেই বিশ্বাসের জায়গায় যদি শিশুকে নিজের শরীর, সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পেতে হয়, তাহলে সমস্যা শুধু একজন শিক্ষকের নয়; সমস্যা আমাদের পুরো শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার।
শিশুদের জন্য নিরাপদ পৃথিবী বানানোর প্রথম শর্ত হলো- তাদের কথা বিশ্বাস করার মতো বড় মানুষ থাকা। আর দ্বিতীয় শর্ত হলো, সেই বিশ্বাসের অপব্যবহার হলে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান দুটোই যেন চুপ না থাকে।