জশনে জুলুসে জনসমুদ্র ঢাকা

ধর্ম

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা

2026-08-23T20:42:25+00:00
2026-08-23T20:51:27+00:00
  সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬,
৯ ভাদ্র ১৪৩৩
 
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
ধর্ম
জশনে জুলুসে জনসমুদ্র ঢাকা
রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪২ পিএম  আপডেট: ২৩.০৮.২০২৬ ৮:৫১ পিএম
সংগৃহীত ছবি
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশ নেন। আয়োজকদের দাবি, এবারের জুলুসে প্রায় চার লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকেই মোহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসা মাঠে জড়ো হতে থাকেন অংশগ্রহণকারীরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুরো মাদরাসা প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। পরে সকাল ১১টার দিকে সেখান থেকে জশনে জুলুস শুরু হয়।

আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট, ঢাকা শাখার ব্যবস্থাপনায় এবং গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, ঢাকার সহযোগিতায় আয়োজিত জুলুসে নেতৃত্ব দেন দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া ছিরিকোট শরিফের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ।

জুলুসটি তাজমহল রোড, কৃষি মার্কেট, রিং রোড, শিয়া মসজিদ, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, সাত মসজিদ রোড, ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়ক, মিরপুর রোড, আসাদ গেট ও কলেজ গেট হয়ে শ্যামলী ক্লাব মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অংশগ্রহণকারীরা জামাতের সঙ্গে জোহরের নামাজ আদায় করেন।

জুলুসকে ঘিরে মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল কলেমা ও ইসলামী বাণীসংবলিত বিভিন্ন রঙের ব্যানার ও পোস্টার। এ সময় ‘নারায়ে তাকবির’ ও ‘নারায়ে রিসালাত’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অনেকে হামদ, নাতে রাসুল ও গজল পরিবেশন করেন।

নারায়ণগঞ্জের নলচর এলাকা থেকে বাবার সঙ্গে জুলুসে অংশ নিতে ঢাকায় আসে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী হামজা ইসলাম। সে জানায়, ফজরের নামাজ আদায় করে বাবার সঙ্গে জুলুসে যোগ দিতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় তারা। তাদের এলাকা থেকে দুটি বাসে প্রায় শতাধিক মানুষ জুলুসে অংশ নিতে ঢাকায় আসে।

গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে আসা শহীদুল্লাহ বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শাফায়াত লাভের আশায় তিনি জুলুসে অংশ নিয়েছেন। প্রতিবছরই জুলুসে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও জানান তিনি।

জুলুসের মিডিয়া সেলের সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবু তালেব বেলাল জানান, প্রায় চার লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান এতে অংশ নিয়েছেন। গরমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অংশগ্রহণকারীদের জন্য খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়। মেহমানদারিতে প্রায় তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন।

মহানবীর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান

জুলুস শেষে শ্যামলী ক্লাব মাঠে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা সভা ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ও সভাপতির আসনে ছিলেন পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ।

আলোচনায় তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) সমগ্র সৃষ্টির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ নিয়ামত ও রহমত। তাঁর শুভাগমনে আনন্দ প্রকাশ করা আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণের অংশ।

তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর আদর্শ শান্তি, সাম্য, মানবতা ও মুক্তির পথ। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি, মানবিকতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসের বিরোধিতা করে পীর সাবির শাহ বলেন, ইসলামের নামে যেকোনো ধরনের উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস সুফিবাদী সুন্নি মুসলমানরা প্রত্যাখ্যান করে।

মাহফিলে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন আল-আযহারীসহ অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম।

অনুষ্ঠান শেষে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং দেশের কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ পীর সাবির শাহ।


Loading...
Loading...

ধর্ম- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: