পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষে রাজধানীতে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ, আত্মশুদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
দেওয়ানবাগীর দল ওলামা মিশন বাংলাদেশের উদ্যোগে মতিঝিলের এজিবি কলোনি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক আলেম-ওলামা, আশেকে রাসুল ও ইসলামী চিন্তাবিদ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. ফারুক (এম. ফারুক)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা রাসুল (সা.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা, আত্মশুদ্ধি ও উত্তম চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মানুষের অন্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়া পরিবার, সমাজ ও বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
তিনি আলেম-ওলামা ও আশেকে রাসুলদের মহানবি (সা.)-এর প্রেম, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) পালনের প্রসঙ্গে প্রফেসর কুদরত এ খোদা সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.)-এর ভূমিকা তুলে ধরেন। তার দাবি, দেওয়ানবাগী (রহ.) ঐতিহাসিক দলিলের মাধ্যমে রাসুল (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের তারিখ নিয়ে প্রচলিত ধারণার বিষয়ে ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আগে সিরাতুন্নবি পালিত হলেও পরবর্তী সময়ে ঈদে মিলাদুন্নবি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া আলেম-ওলামা ও ইসলামী চিন্তাবিদরা রাসুল (সা.)-এর জীবনাদর্শ, ঈদে মিলাদুন্নবির তাৎপর্য, আত্মশুদ্ধি, সুফিবাদ এবং ব্যক্তি ও সমাজজীবনে মহানবি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরিফ পাঠ করা হয়। পরে আখেরি মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং বিশ্বমানবতার শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।