বাংলাদেশের ছাগলে প্রথম শনাক্ত ‘বারখোল্ডেরিয়া’ ব্যাকটেরিয়া

বাকৃবি সংবাদদাতা

শিক্ষা

বাংলাদেশের ছাগলের মধ্যে প্রথমবারের মতো রোগসৃষ্টিকারী ‘বারখোল্ডেরিয়া সেপাসিয়া কমপ্লেক্স’ (Burkholderia cepacia complex) ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত করার দাবি করেছেন বাংলাদেশ কৃষি

2026-08-22T18:26:42+00:00
2026-08-22T18:26:42+00:00
  রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
 
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষা
বাংলাদেশের ছাগলে প্রথম শনাক্ত ‘বারখোল্ডেরিয়া’ ব্যাকটেরিয়া
বাকৃবি সংবাদদাতা
শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৬ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের ছাগলের মধ্যে প্রথমবারের মতো রোগসৃষ্টিকারী ‘বারখোল্ডেরিয়া সেপাসিয়া কমপ্লেক্স’ (Burkholderia cepacia complex) ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত করার দাবি করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী পিএলওএস ওয়ান-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেশের ছাগলের মধ্যে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির প্রথম বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ব্যাকটেরিয়াটি মাটি, পানি, উদ্ভিদ ও বিভিন্ন প্রাণীর দেহে টিকে থাকতে পারে।

গবেষকেরা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘোড়া, কুকুর, বিড়াল, পাখি, ভেড়া ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে ব্যাকটেরিয়াটির উপস্থিতি পাওয়া গেলেও বাংলাদেশের ছাগলের ক্ষেত্রে এর উপস্থিতি আগে বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

গবেষণায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি খামার থেকে ৪০টি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও গর্ভপাতের পূর্ব ইতিহাস থাকা ৩০টি ছাগল এবং সুস্থ ১০টি ছাগলকে নিয়ন্ত্রণ দল হিসেবে রাখা হয়।

সংগৃহীত নমুনাগুলো ব্যাকটেরিয়া কালচার, সেরোলজিক্যাল পরীক্ষা, পিসিআর, ডিএনএ সিকোয়েন্সিং ও বংশগত সম্পর্ক বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় অসুস্থতার ইতিহাস থাকা কয়েকটি ছাগলের নমুনায় বারখোল্ডেরিয়া ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়। পরবর্তী আণবিক পরীক্ষা ও ডিএনএ সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে সেগুলোকে বারখোল্ডেরিয়া সেপাসিয়া কমপ্লেক্স হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

অন্যদিকে সুস্থ ছাগলের নমুনায় কোনো ব্যাকটেরিয়াল বৃদ্ধি পাওয়া যায়নি। শনাক্ত ব্যাকটেরিয়ার বংশগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ভারত, জাপান ও চীনে আগে শনাক্ত হওয়া বারখোল্ডেরিয়া প্রজাতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় পাওয়া ডিএনএ সিকোয়েন্স আন্তর্জাতিক জেনব্যাংক তথ্যভান্ডারেও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান। প্রধান গবেষক ছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন। গবেষণায় বাকৃবির ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের গবেষকদের পাশাপাশি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের গবেষকেরাও যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা অনুদানে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ছাগলের মধ্যে বারখোল্ডেরিয়া সেপাসিয়া কমপ্লেক্সের উপস্থিতির এটি প্রথম বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। এই আবিষ্কার ব্যাকটেরিয়াটির বিস্তার, সংক্রমণের উৎস, প্রাণিস্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে নতুন গবেষণার সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, বারখোল্ডেরিয়া সেপাসিয়া কমপ্লেক্স পরস্পর ঘনিষ্ঠ কয়েকটি ব্যাকটেরিয়ার একটি গোষ্ঠী। এগুলো পরিবেশে টিকে থাকতে পারে এবং আন্তর্জাতিকভাবে সুযোগসন্ধানী রোগজীবাণু হিসেবে পরিচিত। এর কিছু প্রজাতি মানুষের শরীরে গুরুতর সংক্রমণ ঘটাতে পারে, বিশেষ করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ও দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।

গবেষণায় যুক্ত আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ফারহান বলেন, এ গবেষণার মাধ্যমে প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণাকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের গবেষণা দেশের জনস্বাস্থ্য ও প্রাণিস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে গবেষকেরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই গবেষণায় বারখোল্ডেরিয়া সেপাসিয়া কমপ্লেক্সকে ছাগলের গর্ভপাতের সরাসরি কারণ হিসেবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে ছাগল থেকে মানুষের মধ্যে ব্যাকটেরিয়াটি সংক্রমিত হওয়ার কোনো প্রমাণও এই গবেষণায় পাওয়া যায়নি। কারণ, গবেষণায় মানুষের বা খামারের পরিবেশের নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি।

গবেষকদের মতে, প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও ব্যাকটেরিয়াটির বিস্তার সম্পর্কে নিশ্চিত হতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছাগল, খামারের পরিবেশ এবং মানুষের নমুনা নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।


Loading...
Loading...

শিক্ষা- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: