পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) হলগুলোর ডাইনিংয়ে কুকুরের অবাধ বিচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা হল ও জুলাই-৬ হলে প্রায়ই কুকুর প্রবেশ করে। কুকুরগুলো হলের বিভিন্ন ফ্লোর, ডাইনিংয়ে অবাধে চলাচল করে এবং কখনো বিভিন্ন ফ্লোরে রাখা ডাস্টবিনের ময়লা খায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের গেটে নিরাপত্তার দায়িত্বে আনসার সদস্যরা থাকলেও কুকুরগুলো কীভাবে হলে প্রবেশ করছে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীরা আনসার সদস্যদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক শিক্ষার্থী জুলাই-৬ হলের ডাইনিংয়ের একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে দেখা যায়, ডাইনিংয়ের টেবিলে রাখা খাবারের প্লেটের উচ্ছিষ্ট কুকুর খাচ্ছে।
ছবিটি পোস্ট করে ওই শিক্ষার্থী লিখেন, "কয়েকদিন আগে দেখলাম ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারে এক ছেলে পোকা পাইছে, ওই জন্য খুব মন খারাপ৷ ছোট ভাইকে বলবো এদিকে দেখো আমরা হলের পুলাপান আস্ত একটা ডগেশ খেয়ে ফেলতেছি।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল এবং বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন মেসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা খাবারের জন্য হল ডাইনিং, ক্যাফেটেরিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন খাবারের দোকানগুলোর ওপর নির্ভরশীল।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব খাবারের স্থানের পরিবেশ, খাবারের মান এবং স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে নানা অভিযোগ করে আসলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, মাঝেমধ্যেই জুলাই-৬ হল ও স্বাধীনতা হলের ডাইনিংয়ে রাতের বেলায় কুকুরকে দেখা যায়। কুকুর জলাতঙ্কের জীবাণু বহন করে। এতে শিক্ষার্থীদের জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্বাধীনতা হলের শিক্ষার্থী আলামিন বলেন, "হলের ভিতরে কুকুর প্রায়ই প্রবেশ করে। মাঝে মধ্যে কুকুর ডাক দেয়, শিক্ষার্থীদের যে কোনো সময় কামড়াতে পারে। হল গেটে আনসার সদস্যরা থাকলে কুকুর কীভাবে প্রবেশ করে, এর জন্য ওনাদের জবাবদিহি প্রয়োজন।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মেডিকেল সেন্টারে কর্মরত বিভিন্ন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা জানান, কুকুরের লালার মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে, যেমন—র্যাবিস ও টিটেনাস। কুকুর যখন নোংরা পরিবেশ থেকে খাবার গ্রহণ করে, তখন তার সঙ্গে বিভিন্ন রোগের জীবাণু বহন করতে পারে। ৩০°C তাপমাত্রায় র্যাবিসের জীবাণু ১ ঘণ্টা থেকে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট, ২০-২১°C তাপমাত্রায় কাচের পাত্রে ২৪ ঘণ্টা এবং ধাতব পাত্রে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে। আমাদের হলের আবহাওয়ায় জীবাণু প্রায় একদিন জীবিত থাকতে পারবে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি যারা হলের ডাইনিংয়ে কাজ করেন, তাঁদেরও স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে।
জুলাই ৬ হল ডাইনিংয়ে দায়িত্বে থাকা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "আমাদের হলের খাবারের শেষ সময় রাত ১০টা পর্যন্ত। আমরা ১০টার পর চলে যাই। টোকেনের কিছু খাবার বেঁচে গেলে সেখানেই রেখে দেই, যাতে ১০টার পরেও এসে শিক্ষার্থীরা খেতে পারে। শিক্ষার্থীরা খাওয়া শেষে দরজা ভালোভাবে না দেওয়ার জন্য এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এরপর রাত ১০টার পর হল ডাইনিং বন্ধ করে চলে যাবো, যাতে কুকুর আসতে না পারে।"