বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলির আবেদন অনলাইনে শুরু হচ্ছে আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট)। আবেদন করা যাবে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, একজন শিক্ষক পছন্দের ক্রমানুসারে সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট বদলি নীতিমালা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর কর্তৃপক্ষ বদলির আদেশ জারি করবে।
শিক্ষকেরা নিজ জেলার প্রতিষ্ঠানে বদলির আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের অন্য কোনো জেলার শূন্য পদের বিপরীতেও আবেদন করা যাবে। এছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্বামী বা স্ত্রীর জেলায় বদলির আবেদন করার সুযোগ থাকছে।
মাউশি জানিয়েছে, চাকরিতে দুই বছর পূর্ণ হলে একজন শিক্ষক বদলির আবেদনের জন্য যোগ্য হবেন। একবার বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর সেখানে কমপক্ষে দুই বছর দায়িত্ব পালন করতে হবে। এরপর পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করা যাবে।
তবে এমপিও বন্ধ থাকা, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া বা কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না। অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য দিয়ে করা আবেদনও গ্রহণ করা হবে না।
বদলির সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কোনো তথ্য ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও আবেদনকারী শিক্ষককে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকতে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে। অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।
২০২৬ সালে প্রণীত সংশোধিত বদলি নীতিমালা অনুযায়ী এবারের আবেদন যাচাই-বাছাই করা হবে। গত ৬ মে জারি করা সংশোধিত নীতিমালায় সহকারী শিক্ষক, প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রদর্শক ও ট্রেড ইন্সট্রাক্টরদের সমপদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এটি বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলির সুযোগ দিয়ে জারি করা চতুর্থ নীতিমালা। এর আগে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট পারস্পরিক আবেদনের ভিত্তিতে প্রথমবার বদলির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের জন্য বদলির সুযোগ সম্প্রসারিত করা হয়।
এরপর চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি স্কুল-কলেজের সব শিক্ষককে বদলির সুযোগ দিয়ে নতুন নীতিমালা জারি করা হয়। পরে তা সংশোধন করে ৬ মে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানদেরও বদলির আওতায় আনা হয়।
দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে বদলির আবেদন করতে পারবেন যোগ্য শিক্ষকরা।