জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবনের তোলা ‘ফ্লোটিং সারভাইভাল’ শীর্ষক আলোকচিত্র আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডেকাগন গ্যালারি আয়োজিত ‘ওভারকামিং-হোয়াট রিমেইনস স্ট্যান্ডিং ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিযোগিতায় ছবিটি সেকেন্ড প্লেস নির্বাচিত হয়। এ অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে শ্রাবন পেয়েছেন ২৫০ মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে তাঁর ছবিটি প্রতিযোগিতার আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতেও স্থান পেয়েছে।
ঢাকার সদরঘাটে ছবিটি ধারণ করেন ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবন। ছবিতে সারাদিন নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা কয়েকজন মাঝির জীবনসংগ্রাম ফুটে উঠেছে। দিনের কাজ শেষে অনেক মাঝির বাড়ি ফেরার সুযোগ হয় না। যে নৌকাটি তাঁদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন, অনেক সময় সেটিই হয়ে ওঠে রাত কাটানোর আশ্রয়।
কর্মস্থল, জীবিকার মাধ্যম ও আশ্রয়, একটি নৌকাকে ঘিরে মাঝিদের এমন জীবনযাপনের বাস্তব চিত্রই ‘ফ্লোটিং সারভাইভাল’ আলোকচিত্রে তুলে ধরেছেন শ্রাবন।
প্রতিযোগিতাটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল প্রতিকূলতা, সংগ্রাম ও নানা সংকটের মধ্যেও মানুষের টিকে থাকার গল্প তুলে ধরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলোকচিত্রী এতে অংশ নেন। সারভাইভাল, রেজিলিয়েন্স ও হার্ডশিপের নানা বাস্তবতা তাঁদের আলোকচিত্রে উঠে আসে।
ইরান, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, নেদারল্যান্ডস, রাশিয়া, জার্মানি, ব্রাজিল ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের আলোকচিত্রীদের সঙ্গে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে এ প্রতিযোগিতায় স্থান করে নেন শ্রাবন।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবন বলেন, বিশ্ব আলোকচিত্র দিবসের পরদিন এমন একটি আন্তর্জাতিক অর্জনের খবর পাওয়া তাঁর জন্য আনন্দের ও অনুপ্রেরণার। এই স্বীকৃতি তাঁর কাজের প্রতি আগ্রহ ও দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ছবির মাধ্যমে মানুষের গল্প বলাই তাঁর লক্ষ্য। সেই গল্পের সন্ধানে তিনি বিভিন্ন জায়গায় ছুটে যান, মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের জীবনযাপন দেখেন এবং বাস্তবতার নানা দিক ক্যামেরায় ধারণ করার চেষ্টা করেন। ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার ক্ষেত্রে এ অর্জন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবন ফ্রিল্যান্স ফটোজার্নালিস্ট ও ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি ‘ফোটোটুরবাংলা ডটকম’ পরিচালনা করছেন। এর আগে তাঁর তোলা আলোকচিত্র আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও আটটি পুরস্কার অর্জন করেছে।