বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটির বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস। শুক্রবার (২১ আগস্ট) প্রকাশিত তালিকায় এসব এজেন্সির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালিকায় থাকা এজেন্সিগুলো হলো, বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড, বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট, জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি, মেসার্স ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস, অ্যানেসা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আত-তাকওয়া ওভারসিজ লিমিটেড, আর্থ-স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, খান জাহান আলী ওভারসিজ, মেসার্স আল-শোতুপ ওভারসিজ, মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড, রিফা ইন্টারন্যাশনাল, ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল, আল-হায়াত ওভারসিজ, ভালুকা ওভারসিজ, ব্রাদার্স ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং লিমিটেড, চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল, কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি, গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড, জুয়েল রিঙ্কু এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার লিঙ্ক, নেবারস অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড, তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও অ্যাঙ্কর কেয়ার গ্লোবাল মাইগ্রেশন।
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কার্যত বন্ধ রয়েছে। ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে বিদেশি কর্মী প্রবেশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি কর্মী দেশটিতে যেতে পারেননি।
পরে আট হাজারের মতো বাংলাদেশি কর্মীকে পুনরায় মালয়েশিয়ায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে তাদের মধ্যে এখনও প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী দেশটিতে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকে ঘিরে দেশটির শ্রমবাজার আবারও খোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে নতুন করে কী প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি মালয়েশিয়া সরকার।
এর মধ্যেই ২৫টি বাংলাদেশি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করায় নতুন করে সিন্ডিকেট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২০০৮ সালে বাংলাদেশিদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পর ২০১৬ সালে তা আবার চালু হয়। এরপর দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে ফের বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে মালয়েশিয়া।
২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে শ্রমবাজার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরের বছরের আগস্টে আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়া যাওয়া শুরু হয়। তবে ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে পুনরায় বন্ধ হয়ে যায় শ্রমবাজার।
অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় বেড়ে যায় এবং বিপুল অর্থ মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে চলে যায়। এ কারণে সিন্ডিকেটমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছেন জনশক্তি রফতানিকারকদের একটি অংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হলেই সরাসরি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয় না। চুক্তির পর কতজন কর্মী যাবে, কোন প্রক্রিয়ায় যাবে এবং কী কী শর্ত থাকবে— এসব বিষয়ে দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে একটি চিঠি দিয়ে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্ত পূরণে সক্ষম রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা চায়।
পরে বাংলাদেশ ওই শর্তগুলোর মধ্যে অন্তত তিনটি শিথিল করার অনুরোধ জানায়। এর মধ্যে ছিল গত পাঁচ বছরে অন্তত ৩ হাজার প্রবাসী কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা, নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং গত তিন বছর ধরে কমপক্ষে ১০ হাজার বর্গফুটের স্থায়ী অফিস থাকা।
২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর তৎকালীন প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল মালয়েশিয়া সরকারের কাছে এসব শর্ত শিথিলের অনুরোধ জানান।
এরপর ১০টি ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে সাতটি পূরণকারী ২৬০টি এবং ছয়টি পূরণকারী ১৬৩টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করা হয়। অর্থাৎ মোট ৪২৩টি এজেন্সিকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করে তালিকা মালয়েশিয়া সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
এরপর নতুন করে ২৫টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশের ঘটনায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া ও এজেন্সি নির্বাচনের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।