নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা মুজাহিদুল ইসলাম ওরফে বুলবুল আহমেদ হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শেখ সিফাতসহ নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের আটকের খবর পাওয়ার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরে সকালে বুলবুল হত্যার প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভকারীরা সড়কে টায়ার ও বাঁশ-কাঠে আগুন জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, বুলবুল হত্যার ঘটনায় নয়জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ বলেন, হত্যার প্রতিবাদে তাঁরা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ এসে প্রধান অভিযুক্তসহ নয়জনকে আটকের বিষয়টি জানালে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি শামীম শেখ বলেন, অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজট তৈরি হয়। পরে আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, আন্দোলনকারীরা শুরুতে জানতেন না যে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত নয়জনকে আটক করা হয়েছে। পরে বিষয়টি জানার পর তাঁরা অবরোধ তুলে নেন। হত্যার কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
যেভাবে হত্যা করা হয় বুলবুলকে
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বন্দরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সালেহনগর এলাকায় একা ছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল। এ সময় কয়েকজন তাঁকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত বুলবুল বন্দরের শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ী এলাকার মৃত রাজা মাস্টারের ছেলে। তিনি ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ, বন্দর থানা শাখার আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন বুলবুল। ওই সময় তাঁর মালিকানাধীন রিকশার গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে এবং ১৮টি রিকশা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট বুলবুল বাদী হয়ে শেখ সিফাতসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় শেখ সিফাত এজাহারভুক্ত ছয় নম্বর আসামি ছিলেন। স্বজনদের অভিযোগ, মামলা তুলে নিতে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
রাতেও বিক্ষোভ, বাড়িতে হামলার অভিযোগ
বুলবুল হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। রাতে স্থানীয় লোকজন ও ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন এবং টায়ারে আগুন জ্বালান।
একপর্যায়ে অভিযুক্ত শেখ সিফাত ও তাঁর স্বজনদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে হত্যার পেছনের কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।