মাদারীপুরের শিবচরে ঝোপের পাশ থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ফারুক নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই নারীকে হত্যার পাশাপাশি তার এক বছর বয়সী শিশুপুত্র আবিরকে আড়িয়াল খাঁ নদীতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকার খান বাড়ির দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদরাসার বিপরীতে একটি ঝোপের পাশে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালায় পুলিশ।
পরবর্তীতে নিহত নারীর পরিচয় শাম্পা খাতুন (২৮) হিসেবে শনাক্ত হয়। তিনি নাটোরের লালপুর থানার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের বড় মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের আবির (১) নামে এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
নিহতের বাবা ছামরুল ইসলাম জানান, ১৯ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তার মেয়ে শাম্পার মরদেহ শিবচরে পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তার নাতি আবিরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরদিন ২০ আগস্ট তিনি শিবচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার ও শিবচর সার্কেলের কর্মকর্তা মোঃ সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশ ও র্যাব-৮ মাদারীপুর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। শিবচর ও রাজৈর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন ফারুকের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। ফারুক খুলনার তেরখাদা উপজেলার জয়সোমা গ্রামের রতন মোল্লার ছেলে। বর্তমানে তিনি শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকায় বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, ফারুকের কাছ থেকে নিহত শাম্পা খাতুনের ব্যবহৃত স্বর্ণের নাকফুল ও রুপার গলার চেইন উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া তার বাড়ির চুলা থেকে পোড়ানো অবস্থায় শাম্পার ওড়না এবং এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক শাম্পা খাতুনকে হত্যার পর তার এক বছর বয়সী ছেলে আবিরকে আড়িয়াল খাঁ সেতু থেকে নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে শিশুটির মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মরদেহ উদ্ধারে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা অভিযান চালাচ্ছেন।
সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তদন্ত চালানো হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামির কাছ থেকে নিহত নারীর ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
মাদারীপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।