দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্যে বিএনপির নিজস্ব ভোট ছিল ২৪৪টি। অর্থাৎ দলের বাইরে থেকে তিনি পেয়েছেন আরও ১১ ভোট।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৩৪৯ ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন। গণনা শেষে মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ৮৮ ভোট পান।
ভোটের হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২০৮ জন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ জনসহ মোট ২৪৪ জন মির্জা ফখরুলকে ভোট দিয়েছেন।
এর বাইরে জোটসঙ্গীদের কাছ থেকে তিনি পেয়েছেন ৩ ভোট। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের ৭টি ভোটও গেছে তাঁর পক্ষে। পাশাপাশি ‘হাতপাখা’ প্রতীকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যের ভোট পেয়েছেন মির্জা ফখরুল। ফলে দলের নিজস্ব ২৪৪ ভোটের সঙ্গে আরও ১১ ভোট যোগ হয়ে তাঁর মোট ভোট দাঁড়ায় ২৫৫।
এ বিষয়ে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সাতটি, জোটসঙ্গীদের তিনটি এবং হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যের একটি ভোট মির্জা ফখরুল পেয়েছেন।
৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন
১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবরের পর এবারই প্রথম সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এরপর ১৯৯৬, ২০০১, ২০০২, ২০০৯, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে একাধিক প্রার্থী না থাকায় ভোটের প্রয়োজন হয়নি।
এবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়।
ভোট দেননি ছয় সংসদ সদস্য
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ছয়জন সংসদ সদস্য ভোট দেননি। তাঁদের মধ্যে বিএনপির মির্জা আব্বাস চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে রয়েছেন। এছাড়া বিএনপির ওসমান ফারুক ও মোস্তফা কামাল পাশা, জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ভোট দেননি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদ সংসদ সদস্য না হওয়ায় নিজে ভোট দিতে পারেননি।
শুক্রবার শপথ
নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন। তাঁকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শপথ নেওয়ার পর মির্জা ফখরুলের সংসদ সদস্যপদ শূন্য হবে এবং মন্ত্রিত্বের দায়িত্বও শেষ হবে। তাঁর শপথের মধ্য দিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের দায়িত্বেরও অবসান ঘটবে।