গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। ঘোষিত এ কর্মসূচি সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধীজোট। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। লংমার্চে লক্ষাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও নেওয়া হচ্ছে নানা প্রস্তুতি। বিশেষ করে কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কমিটি গঠন এবং দায়িত্ব বণ্টন করেছে জামায়াত। কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়ন করাই তাদের মূল লক্ষ্য বলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ কর্মসূচিতে বাধা না দেয়ার আহবান জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পরিধি এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে নানা বিশ্লেষণ। শেষ পর্যন্ত কতটা বড় জনসমাগম হয় এবং কর্মসূচির মাধ্যমে ১১ দল কী ধরনের রাজনৈতিক বার্তা দিতে পারে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের। এ লংমার্চ সফল করতে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। একই সাথে কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা তৈরির লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণাও জোরদার করা হয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশসহ চার বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বৈষম্য দূরীকরণ এবং বিভিন্ন অপরাধের বিচারসহ একাধিক দাবি সামনে রেখে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা ও ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে রেলপথে লংমার্চ হবে। এরপর ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ। লংমার্চের পাশাপাশি রাজপথে বেশ কয়েকটি সভা হবে। সরকারকে লংমার্চে বাধা না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন জামায়াতের আমির। লংমার্চে বাধা দিলে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামার হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে এরচেয়ে কঠিন কর্মসূচীও দেয়ার কথা ভাবছে দলগুলো।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, লংমার্চকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত, সমন্বয়, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। জামায়াতের দায়িত্ব নেতারা বলছেন, ঘোষিত কর্মসূচির মাধ্যমে তারা জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও সমস্যার বিষয়টি সামনে আনতে চান। বিশেষ করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ কমানোর দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
১১ দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লংমার্চ হবে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে শৃঙ্খলার সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ হবে সরকারের জন্য একটি বার্তা। এ লংমার্চ সফল করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরুপে ব্যর্থ হয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করাসহ সরকার গ্যাস দিতে পারছে না, বিদ্যুৎ দিতে পারছে না। সরকার দ্রুত আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না করলে আরো কঠোর কর্মসূচী দিতে আমরা বাধ্য হবো।