দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি ও ঝুঁকি মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে Civil Aviation Threat and Risk Assessment Committee (CATRAC)-এর দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন CATRAC-এর সভাপতি ও বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বেবিচক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এয়ার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বেসামরিক বিমান চলাচল খাত সন্ত্রাসবাদ, সাইবার হামলা, Insider Threat, IED ও ড্রোন হামলাসহ নানা ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি জানান, ICAO-এর Annex 17 অনুযায়ী নিয়মিত নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নে CATRAC গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইতোমধ্যে Civil Aviation Risk Context Statement (CARCS) চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের পদ্ধতিও নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
সভায় বিমানবন্দরের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ফিশিং, পাসওয়ার্ড চুরি, অননুমোদিত প্রবেশ এবং যাত্রী ও ফ্লাইটসংক্রান্ত তথ্য চুরির মতো সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় বেবিচকের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়।
সভায় জানানো হয়, National Civil Aviation Security Programme (NCASP) ও Aviation Security Training Programme (ATSP)-তে সাইবার নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি Civil Aviation Cybersecurity Directives জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া Bangladesh Computer Council (BCC)-এর e-Gov CIRT-এর সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা অডিটের জন্য সমঝোতা স্মারক (MoU) সম্পন্ন হয়েছে। দেশের বিমানবন্দরগুলোকে Critical Information Infrastructure (CII) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং National Cybersecurity Agency (NCSA) থেকে নিয়মিত নির্দেশনা নেওয়া হচ্ছে।
বিমানবন্দরে ঝুঁকিভিত্তিক Aircraft Search-এর প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে Higher-Risk Designation List (HRDL) প্রণয়নের জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সভায় CATRAC-এর প্রথম সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা হুমকি, সময়োপযোগী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
সভায় বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, কার্যকর ঝুঁকি মূল্যায়ন, যথাযথ তথ্য বিনিময় এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বিত কার্যক্রম ICAO-এর আসন্ন নিরাপত্তা অডিট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সমাপনী বক্তব্যে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সময়মতো তথ্য আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, CATRAC-এর পরবর্তী সভা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আয়োজনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।