জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া ও অগ্নিনিরাপত্তা প্রস্তুতি যাচাইয়ে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদরদপ্তর এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ প্রশিক্ষণ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে আয়োজিত এ মহড়া সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
মহড়ায় বেবিচকের সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
বেবিচক সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত মহড়ায় চিফ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল। অন্যদিকে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় অনুষ্ঠিত মহড়ায় চিফ কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্বে ছিলেন বেবিচকের সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম।
মহড়ায় অগ্নিকাণ্ডের একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি তৈরি করে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সাড়া দেওয়ার পদ্ধতি অনুশীলন করা হয়। একই সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার, নিরাপদে স্থান ত্যাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়গুলো বাস্তবভিত্তিকভাবে প্রদর্শন করা হয়।
অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক পর্যায়ে করণীয়, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের কার্যকারিতাও মহড়ার মাধ্যমে যাচাই করা হয়।
মহড়া পরিদর্শনের সময় বেবিচক চেয়ারম্যান জরুরি পরিস্থিতিতে জানমাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মহড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বিমানবন্দর ও এভিয়েশনসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় আধুনিক সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবল এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও বাস্তবমুখী মহড়ার মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা আরও বাড়াতে হবে।
বেবিচক চেয়ারম্যান আরও বলেন, এ ধরনের মহড়ার মাধ্যমে বিদ্যমান অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই এবং সম্ভাব্য ঘাটতি চিহ্নিত করা সম্ভব। মহড়া থেকে পাওয়া পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণ আরও জোরদার করা হবে।
বেবিচক জানিয়েছে, এটি ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত ও প্রশিক্ষণমূলক মহড়া। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি, দক্ষতা ও পারস্পরিক সমন্বয় যাচাইয়ের পাশাপাশি সামগ্রিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।