রাজশাহীর পুঠিয়ায় সাত বছরের শিশু মো. রিফাতকে শ্বাসরোধ ও গলা কেটে হত্যার দায়ে সৎবাবা মোহাম্মদ আলীকে (৩৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহীর অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আলী নাটোর সদর উপজেলার একডালা এলাকার বাসিন্দা। ২০১৯ সালের ২৮ মে রিফাতকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সাত মাস আগে রিফাতের মা বুলবুলি খাতুনকে বিয়ে করেন মোহাম্মদ আলী। বুলবুলির আগের সংসারের সন্তান ছিল রিফাত। স্ত্রী আর সন্তান নিতে না চাওয়ায় সৎসন্তানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৯ সালের ২৮ মে সন্ধ্যায় নাটোর সদর উপজেলার একডালা এলাকার একটি মসজিদে ইফতার ও নামাজ শেষে বের হয় রিফাত। এ সময় তরমুজ কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে সাইকেলে তুলে নেন মোহাম্মদ আলী। পরে নাটোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানোর পর তাকে রাজশিয়ার পুঠিয়া উপজেলার সেনভাগ এলাকার একটি কলাবাগানে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে রিফাত বিষয়টি বুঝতে পেরে সৎবাবার হাতে কামড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে মোহাম্মদ আলী তাকে ধরে প্রথমে গলাটিপে হত্যা করেন। এরপর ছুরি দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।
হত্যার পর রাতে বাড়িতে ফিরে যান মোহাম্মদ আলী। ছেলে কোথায় জানতে চাইলে তাঁর আচরণে সন্দেহ হয় পরিবারের সদস্যদের। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাঁকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানায়।
পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুঠিয়ার সেনভাগ এলাকা থেকে রিফাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
আদালতের পেশকার রেজাউল ইসলাম সেন্টু জানান, আসামি নিজে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেননি। পরে রাষ্ট্রপক্ষ তাঁর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করে। মামলায় আসামির স্বীকারোক্তি ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত মোহাম্মদ আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণার পর তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।