খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার হরিণটানা আশিবিধা এলাকায় মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ ফুটের ব্যবধানে দুই যুবককে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে পৃথক সময়ে এ দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। একজনকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে এবং অপরজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন, আশিবিধা এলাকার খোকনের ছেলে মো. মনজুরুল ইসলাম এবং একই এলাকার মুনীরের ছেলে নাজমুল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে আশিবিধা এলাকার একটি বালুর মাঠে স্থানীয় ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়। খেলা শেষে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের কথিত সাইফি বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে মনজুরুলের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাইফি ছুরি দিয়ে মনজুরুলের নাভির পাশে ও পেটে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তার বাম পায়েও গুলি করা হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত মনজুরুলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, একই রাতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ ফুট দূরে নাজমুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে লবণচরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। তবে নাজমুলকে হত্যার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরে ঘটনাস্থলে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দলকে ডাকা হয়।
সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মনজুরুলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর নাজমুলের মরদেহও ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, দুটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।